জাতীয়

ওয়াশিংটনে গ্লোবাল সামিটে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা নিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানের ভাষণ

ওয়াশিংটন, ২৫ মার্চ – মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত একটি বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রদানকালে ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের কল্যাণ ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের বেশি ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা যোগ দেন।

শিশুদের সম্ভাবনা ও উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই আয়োজন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিনিয়র চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং নারী উদ্যোক্তা মেহনাজ মান্নান। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ডেপুটি চিফ অব মিশন ডি. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উপস্থাপন করা হয়, যা ডা. জুবাইদা রহমান ও তার প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সমাপনী অধিবেশনেও তিনি অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। উদ্বোধনী সেশনের ভাষণে শিশুদের উন্নয়নে বিশ্বনেতাদের একত্রিত করার জন্য মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান ডা. জুবাইদা। তিনি বলেন, প্রতিটি জাতির ভবিষ্যৎ তাদের শিশুদের যত্ন, শিক্ষা এবং মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ডের মতো উদ্যোগ পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করছে।

একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি শিশুদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সুরভী নামক সামাজিক সংগঠনের সাথে তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার শিক্ষাব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে নারীর ক্ষমতায়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর কথা স্মরণ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, নারীরা ক্ষমতায়িত হলে পরিবার শক্তিশালী হয়। বেসরকারি খাত এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সাথে নিয়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

এস এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language