ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান, পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ পাঠানোর চ্যালেঞ্জ ইরানের

তেহরান, ১৬ মার্চ – ইরানের নৌবাহিনীর সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটি চুক্তি করতে ইচ্ছুক বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিবৃতি দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা উসকানি দিয়ে উপহাস করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাহস থাকলে তারা যেন পারস্য উপসাগরে নিজেদের জাহাজ পাঠায়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরিভাবে বিপ্লবী গার্ড নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অঞ্চলে ইরানের নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব বজায় আছে বলেও তিনি জোর দাবি করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস করেছেন। সত্যিই যদি তার সেই সাহস থাকে, তবে তিনি পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ পাঠাতে পারেন।
নাইনি আরও দাবি করেন, এখন পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩ হাজার ৬০০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ তখনই শেষ হবে যখন শত্রুপক্ষ ইরানের সামরিক শক্তি ও সামাজিক প্রতিরোধের ক্ষমতাকে স্বীকার করে নেবে। আগ্রাসীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ইরান তাদের ভারী ও বিধ্বংসী হামলা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় এক হাজার তিনশ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
পাশাপাশি মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনএন/ ১৬ মার্চ ২০২৬









