মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: নাগরিকদের ইরাকসহ ১২ দেশ ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

তেহরান, ১৫ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের কমপক্ষে ১২টি দেশ থেকে নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুততম সময়ে দেশটি ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগী দেশগুলোকে পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার অনুরোধ করেছিলেন।
একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত নন। উল্টো তিনি ইরানের খারগ দ্বীপে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি তেহরানের শত্রুদের জন্য বন্ধ থাকবে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে এখনো আগুন জ্বলছে। এদিকে আজ ভোরে ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন বাগদাদ দূতাবাস শনিবার একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। তারা নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছে যারা থেকে যেতে চান তাদের চরম সতর্ক থাকতে হবে কারণ ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কারণে সেখানে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী শনিবার যুক্তরাষ্ট্র সরকার ওমান থেকে তাদের জরুরি নয় এমন সব সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর টোকিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। জাপানের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মার্কিন অনুরোধ এলেও জাপান নিজস্ব মূল্যায়ন ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেবে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বিমান মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানের জন্য সুইজারল্যান্ডের আকাশপথ ব্যবহারের যে দুটি আবেদন করেছিল তা প্রত্যাখ্যান করেছে সুইস সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতার আইন অনুযায়ী সামরিক উদ্দেশ্যে আকাশপথ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত অন্য তিনটি বিমানকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ১৫ মার্চ ২০২৬









