জাতীয়

বায়ুদূষণে ফের শীর্ষে ঢাকা, বাতাসের মান ‘বিপর্যয়কর’ পর্যায়ে

ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি – বিশ্বের ১০০টি প্রধান শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সোমবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান যাচাইকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর বাতাসের গড় মান বা একিউআই ছিল ২৫৯। এই মানমাত্রাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এমনকি নগরীর কোনো কোনো স্থানে দূষণের মাত্রা ৪০০ অতিক্রম করেছে, যা ‘বিপর্যয়কর’ অবস্থার নির্দেশক। ঢাকার অন্তত আটটি এলাকায় সোমবার দূষণ পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

একই সময়ে বায়ুদূষণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের কিনসাসা এবং তৃতীয় অবস্থানে ছিল মিশরের রাজধানী কায়রো। শহর দুটির বায়ুমান সূচক রেকর্ড করা হয়েছে যথাক্রমে ২৪৭ ও ২২৭। সাধারণত বায়ুমান সূচক ২০০ এর বেশি হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০ ছাড়ালে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলা হয়। ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতি এই দুই স্তরের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে তা সর্বোচ্চ ঝুঁকির পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা আইকিউএয়ার নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করে এবং লাইভ সূচকের মাধ্যমে সতর্কতা জারি করে। গত জানুয়ারি মাসের অর্ধেকের বেশি সময় ধরে ঢাকাই ছিল বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘস্থায়ী এই দূষণের ফলে নগরবাসীর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ফুসফুসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিবেশ ও স্বাস্থ্য খাতের পর্যবেক্ষকদের মতে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বায়ুদূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের ধুলাবালি এবং ইটভাটা অন্যতম। এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।

সোমবার সকালে ঢাকার যেসব এলাকায় বায়ুর মান সবচাইতে খারাপ ছিল তার মধ্যে অন্যতম নিকুঞ্জ এলাকা। সেখানে এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড সংলগ্ন এলাকায় বায়ুমান সূচক ছিল ৪০৮। এছাড়া ধানমন্ডিতে ২৯৩, দক্ষিণ পল্লবীতে ২৭৮, বেচারাম দেউড়িতে ২৭৩, মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় ২৬৯, বেজ এইজ ওয়াটার এলাকায় ২৫৬ এবং গোরানে ২১৩ রেকর্ড করা হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আইকিউএয়ার নগরবাসীকে মাস্ক ব্যবহার করার এবং ঘরের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এনএন/ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language