পশ্চিমবঙ্গ

আর যাতায়াত নয়, ভোটের আগে বাংলায় স্থায়ীভাবে ঘাঁটি গাড়তে চলেছেন শাহ

কলকাতা, ১৪ জুলাই – বাংলার রাজনীতিতে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বারবার রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ। এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই প্রচার-পর্বে নতুন মোড় আনতে চলেছে বিজেপি। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলায় স্থায়ীভাবে ঘাঁটি গাড়তে চলেছেন শাহ নিজেই।

বিহার ভোট শেষেই বাংলায় আসার পরিকল্পনা

জানা যাচ্ছে, নভেম্বরের মধ্যে বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হবে। তারপরই বাংলায় আসতে পারেন অমিত শাহ। বিজেপির অন্দরমহলের খবর, এবারে আর শুধু যাতায়াত নয়—কলকাতা বা সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখান থেকেই দলীয় রণকৌশল ও প্রচারপরিকল্পনা পরিচালনা করবেন মোদীর ডেপুটি। বিজেপির মতে, এতে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় যেমন গড়ে তোলা যাবে, তেমনি রাজ্যের মাটি থেকে সরাসরি নির্বাচনী দিকনির্দেশও দেওয়া সম্ভব হবে।

একুশে স্বপ্নভঙ্গ, ছাব্বিশে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ‘পরিবর্তন’–এর ডাক দিয়ে জোরদার প্রচার চালালেও, তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-র বেশি আসন পেয়ে টানা তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসে। তবে এবার বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে তৃণমূল বিরোধী হাওয়া ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

সম্প্রতি তামিলনাড়ুর এক জনসভায় অমিত শাহ ঘোষণা করেন, ২০২৬ সালে বাংলা ও তামিলনাড়ুতে এনডিএ সরকার গঠন করবে। পাশাপাশি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলায় প্রতিষ্ঠান বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট। আমরা মাত্র ৩ থেকে ৭৭-এ পৌঁছেছি। অঙ্ক বোঝেন এমন কেউ এই প্রবণতা বুঝতে পারবেন। যেমন বামফ্রন্ট ৩৪ বছর, কংগ্রেস ৩০ বছর ক্ষমতায় ছিল, আজ তারা শূন্য। ঠিক তেমনটাই ঘটবে তৃণমূলের ক্ষেত্রেও।”

তৃণমূলের কটাক্ষ, বিজেপির পাল্টা জবাব

অমিত শাহর বাংলায় ঘাঁটি গাড়ার সম্ভাবনাকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “সংবিধান মতে কথা বলার অধিকার সকলেরই আছে। কিন্তু এটা তো নতুন কিছু নয়। গত সাত-আট বছর ধরে একই কথা শুনছি—এবার বিজেপি সরকার আসছে। কিন্তু ফলাফল বদলায় না। আগে পাঁচতারা হোটেল ভাড়া করতেন, এবার বাড়ি ভাড়া করবেন। সংগঠনহীন বিজেপি ঘরে ঘরে যাবে কীভাবে?”

জয়প্রকাশের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কটাক্ষ, “গতবার অর্ধেকটা কাজ হয়ে গিয়েছে, এবার বাকি অর্ধেকটা করব। আমরা সর্বভারতীয় দল। আমাদের সর্বভারতীয় নেতারা রাজ্যে এসে প্রচার করবেন। লক্ষ লক্ষ কর্মী থাকবেন তাঁদের সঙ্গে।”
তিনি আরও বলেন, “জয়প্রকাশবাবু সদ্য তৃণমূলে গিয়েছেন। তাঁর নেতাদের জিজ্ঞাসা করুন, ত্রিপুরা আর গোয়ায় কত টাকা খরচ করেছে তৃণমূল? ওঁরা ডেলি প্যাসেঞ্জারি করেন না? ত্রিপুরায় বাসে করে লোক পাঠাতে দেখেছি। কিন্তু সেখানকার মানুষ ভোটে কী জবাব দিয়েছে, তা সবাই জানে।”

ভোটের আগে নজর বাংলার মাটিতে

অমিত শাহর সম্ভাব্য বাংলায় ঘাঁটি গাড়া, বিজেপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছেই। শাহের বাংলায় উপস্থিতি শুধু প্রচারের জন্য নয়, বরং এটি বিজেপির ভবিষ্যৎ রণকৌশলের কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ঢেউ কতটা বাস্তবে ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হবে, তা বলবে সময়। তবে ছাব্বিশের লড়াই যে আগেভাগেই শুরু হয়ে গেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।


Back to top button
🌐 Read in Your Language