পশ্চিমবঙ্গ

আরজি কর-কাণ্ডে তিন পাতার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ দিল সিবিআই, নজরে তিনজনের ফোন কল

কলকাতা, ২৮ মার্চ – আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণ এবং হত‍্যা মামলায় শিয়ালদহ আদালতে শুক্রবার তিন পাতার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ দিল সিবিআই। সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে তিন জনের কল ডিটেলস। আরও বেশ কয়েক জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। সে সবই রিপোর্ট জানানো হয়েছে বলে খবর। নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, সিবিআই যে নতুন করে তদন্ত করছে, তার প্রমাণ শুক্রবার আদালতে তারা পেশ করেছে। তবে তাঁরা আরও দ্রুত তদন্তের ফল জানতে চান। যদিও বিচারক তাঁদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।

আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে নেমে সিবিআই হাসপাতালের কিছু অংশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে। বেশ কয়েক জনকে আগেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ বার নতুন করে আরও কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রিপোর্টে সিবিআই তেমনটাই দাবি করেছে বলে সূত্রের খবর। আরও খবর, ওই রিপোর্টে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এখন নতুন ২৪ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। হাসপাতালের আরও কিছু জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন করে তিন জনের কল ডিটেলস দেখা হচ্ছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

আরজি কর-কাণ্ডে ধৃত সন্দীপ ঘোষ এবং অভিজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে নতুন তথ‍্য প্রমাণ পেলে তা আদালতে জানানো হবে বলেও শুক্রবার জানিয়েছে সিবিআই। নির্যাতিততার পরিবারের আইনজীবী সওয়াল করে জানান, তদন্তের নামে দীর্ঘসূত্রিতা চলবে না। ধৃত সন্দীপ এবং অভিজিৎকে আদালতে হাজির করার কথা বলা হলেও তাঁরা হাজির হচ্ছেন না। নির্যাতিতার বাবা জানান, তাঁরা অপেক্ষা করে রয়েছেন। আট মাস ধরে যেটা হবে হবে করা হছে, সেটা হচ্ছে না। তিনি আরও জানিয়েছেন, আদালতের ভরসাতেই রয়েছেন তিনি। এর পরেই বিচারক তাঁদের ধৈর্য‍ ধরতে বলেন।

২৮ এপ্রিল সিবিআইকে পরবর্তী ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তার আগে আগামী ১৬ এপ্রিল সন্দীপ এবং অভিজিৎকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরজি কর-কাণ্ডে প্রমাণ লোপাটের মামলায় দু’জনকেই গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। কিন্তু ওই মামলায় দু’জনেই জামিন পেয়েছেন। অভিজিতের জেলমুক্তি ঘটেছে। কিন্তু আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে সন্দীপ এখনও জেলে। তাঁদের দু’জনকে আরজি করের ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় ১৬ এপ্রিল আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বাইরে নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘‘সিবিআই যে নতুন করে কাজ কর্ম শুরু করেছে, তার প্রমাণ কোর্টে রেখেছে শুক্রবার। আমরা বলেছি, তদন্ত করছেন ঠিক আছে, ফলাফল কী হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি চাই।’’

আরজি কর-কাণ্ডে সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে প্রথম থেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল নির্যাতিতার পরিবার। এই মামলায় প্রথম যে চার্জশিট সিবিআই দেয়, তাতে একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে সঞ্জয় রায়কেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই চার্জশিট অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া এগোয় এবং ধৃত সিভিককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাঁকে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় একা সঞ্জয় জড়িত নন। তারা প্রশ্ন তোলে যে, বাকি অভিযুক্তদের কী হবে। নির্যাতিতার পরিবার আদালতে জানিয়েছিল যে, সিবিআইয়ের তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে তারা জানতে পারছে না। তার ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারি মাসে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
এনএন/ ২৮ মার্চ ২০২৫


Back to top button
🌐 Read in Your Language