যূক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে বহিরাগতদের আনার ষড়যন্ত্রের দায়ে বাংলাদেশির ৪৬ মাসের কারাদণ্ড

নিউইয়র্ক, ১০ জানুয়ারি- মেক্সিকো থেকে বহিরাগতদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখার দায়ে মেক্সিকোর মন্টেরিতে বসবাসকারী এক বাংলাদেশি নাগরিককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ডসহ পরবর্তী তিন বছরের জন্য পর্যবেক্ষণের আওতায় মুক্ত রাখার দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার ( ১০ জানুয়ারি) ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

দূতাবাস জানায়, মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মোক্তার হোসেন স্বীকার করেছেন যে, তিনি ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮’র আগস্ট পর্যন্ত অর্থের বিনিময়ে টেক্সাস সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার পরিকল্পনা করেছেন এবং এনেছেন। হোসেন মেক্সিকোর মন্টেরিতে থেকে এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

আরও পড়ুন :  করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু

সেখানে তিনি একটি হোটেলের ব্যবস্থা রেখেছিলেন যেখানে বহিরাগতরা যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পথে আশ্রয় নিতো। এসব বহিরাগতকে যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য হোসেন গাড়িচালকদের অর্থ দিতেন এবং কীভাবে রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হতে হবে সে বিষয়ে বহিরাগতদের পরামর্শ দিতেন।

জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের ক্রিমিনাল ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভিড পি. বার্নস বলেন, মামলার আসামি একটি সংগঠিত চোরাচালান নেটওয়ার্কের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন যিনি মুনাফার জন্য কাজ করতেন। যেসব বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে চাইতো তাদের শিকার বানাতেন। এই দণ্ডাজ্ঞা এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ সংগঠনে জড়িতদের জন্য একটি সুস্পষ্ট নিরোধক হিসেবে কাজ করে যারা আর্থিক লাভের জন্য আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্ররে অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়।

‘সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা আসলে একই বিষয়’ বলে মন্তব্য করেন টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার জন্য নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি রায়ান কে. প্যাট্রিক। ‘আমাদের অবশ্যই জানতে হবে কারা আমাদের দেশে প্রবেশ করছে এবং কাউকেই আমরা অবারিত সুযোগ দিতে পারি না। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমার অফিস সব সহযোগী সংস্থার সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করছে। ’

সান অ্যান্টোনিওস্থ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এসফোর্সমেন্টের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনের (এইচএসআই) ভারপ্রাপ্ত বিশেষ প্রতিনিধি শেন ফোল্ডেন বলেন, হোসেনের অপরাধের তদন্ত, বিচারকার্য ও দণ্ডাজ্ঞার বিষয়টি আন্তর্দেশীয় তদন্তে বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা এবং বিদেশি প্রতিনিধি সংস্থার সমন্বয়ে আন্তর্দেশীয় তদন্তকাজ সমন্বয়ে এইচএসআইর অনন্য সক্ষমতার ফলাফল।

টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সহায়তায় এই মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করেন ক্রিমিনাল ডিভিশনের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড স্পেশাল প্রসিকিউশনস সেকশনের ট্রায়াল অ্যাটর্নি জেমস হেপবার্ন এবং এরিন কক্স।

সূত্র: বাংলানিউজ

আর/০৮:১৪/১০ জানুয়ারি


Back to top button
🌐 Read in Your Language