৪০ হাজার ডলার ছাড়াল এক বিটকয়েনের মূল্য

গত এক মাসেরও কম সময়ে দ্বিগুণ হয়েছিল বিটকয়েনের মূল্য। তারপরও এরই উচ্চগতি থেমে নেই। প্রথমবারের মতো বিটকয়েনপ্রতি দাম বেড়ে ৪০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এই ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
ট্র্যাকার কইনজেকোর তথ্যমতে, গত বছর বাজার মূল্য পাঁচগুণ বেড়ে যাওয়ার পর ক্রিপ্টোকারেন্সিস মাইলফলক স্পর্শ করে। কৌশলবিদরা জানিয়েছেন, ধনী এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এমনটি ঘটছে।
ব্লুমবার্গের সংকলিত দামের সংমিশ্রণ অনুসারে, বৃহস্পতিবার বিটকয়েনের দাম ১১% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০,০৬৫ ডলারে। যা গত বছরের তুলানায় চারগুণ বেশি।
ক্রিপ্টো লেন্ডার নেক্সোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা সহযোগী আন্তনি ট্রেনচেভ বলেন, ‘বিটকয়েন সকল প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গিয়েছে এবং সন্দেহকে অস্বীকার করে চলেছে। এটির এক বছরের অর্জন গত দশ বছরের অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন : আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে এসটিসি
বৃহত্তম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস ইনক বলেছে যে, এটি দ্বিতীয় দিনের জন্য ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন উভয়টিতে ‘সংযোগের সমস্যা’ অনুভব করছে। ক্রেতাদের চাপের কারণেই এমনটি হয়ে থাকে।
এক দশকের বেশি সময় ধরে বাজারে এসেছে ব্লকচেন মুদ্রাটি। তবে ২০২০ সালে বৃহত্তর মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে এর চাহিদা বেড়েছে। মূলধারার মুদ্রার মূল্যস্ফীতি থেকে বাঁচতে এবং দ্রুত লাভের সম্ভাবনা থেকে এই ভার্চুয়াল মুদ্রার দিকে ঝুঁকছে বিনিয়োগকারীরা।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বিট কয়েন দাম বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনার ধাক্কা মোকাবিলায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার শুন্যের কাছাকাছি নামিয়ে এনেছে এবং এ অবস্থা দীর্ঘ থাকবে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
বাজারে ডলারও দুর্বল হচ্ছে। এসব কারণেই বিনিয়োগকারীরা বিট কয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ ঢালছেন।
বিশ্বব্যাপী ব্লকচেইন প্রকল্প চেইনলিংকের কো-ফাউন্ডার সের্গেই নাজারভ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, খুব সম্ভবত বিটকয়েন প্রতি মূল্য শেষ পর্যন্ত এক লাখ ডলারে (৮০ লাখ টাকা প্রায়) পৌঁছাবে। কারণ লোকেরা সরকারি মুদ্রার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। করোনাভাইরাস অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস ত্বরান্বিত করছে।
অনলাইনে ডলার-পাউন্ড-ইউরোর পাশাপাশি কেনাকাটা করা যায় বিটকয়েন দিয়ে। তবে অন্যান্য মুদ্রাব্যবস্থায় যেমন সে দেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক জড়িত থাকে, বিটকয়েনের ক্ষেত্রে তা নয়। ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামের কেউ কিংবা একদল সফটওয়্যার ডেভেলপার নতুন ধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার প্রচলন করে। এ ধরনের মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সি নামে পরিচিতি পায়। নাকামোতোর উদ্ভাবিত সে ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম দেওয়া হয় বিটকয়েন।
বিটকয়েন লেনদেনে কোনো ব্যাংকিং ব্যবস্থা নেই। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনলাইনে দুজন ব্যবহারকারীর মধ্যে সরাসরি (পিয়ার-টু-পিয়ার) আদান-প্রদান হয়। লেনদেনের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হয় ক্রিপ্টোগ্রাফি নামের পদ্ধতি।
সূত্র: প্রবাস জার্নাল
আর/০৮:১৪/৮ জানুয়ারি









