পশ্চিমবঙ্গ

মমতার প্রশংসা করে চিঠির উত্তর দিলেন অমর্ত্য সেন

কলকাতা, ২৮ ডিসেম্বর- অমর্ত্য সেনের জমি বিতর্ক ঘিরে উত্তাল বাংলা। পথে নামছে বুদ্ধিজীবীরা। ইতিমধ্যেই অমর্ত্য সেনকে ‘বোন’ হিসেবে চিঠিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মমতাকে সেই চিঠির উত্তর দিলেন অমর্ত্য সেন।

চিঠির উত্তরে বাঙালি নোবেলজয়ী বলেন, ‘আপনার সমর্থনে ভরসা পেলাম।’

মমতার চিঠির জবাবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ লিখেছেন, ‘চিঠিতে আপনার সমর্থনের কথা জানতে পেরে আমি খুব খুশি। এটা শুধু আমাকে স্পর্শ করেনি, আমাকে আশ্বস্ত হয়েছি। আপনার ব্যস্ত জীবনের মধ্যেও আক্রান্ত মানুষের জন্য আপনি সময় বের করেছেন। আপনার শক্তিশালী কণ্ঠ, যা ঘটছে তা নিয়ে আপনার উপলব্ধি আমার কাছে শক্তির উৎসস্বরূপ’।

সম্প্রতি শান্তিনিকেতনে ‘প্রতীচী’র জমি ঘিরে বিতর্ক তৈরি শুরু হয়েছে। তার পরই লিঠি লিখে ওই অর্থনীতিবিদের পাশে থাকার বার্তা দেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, জমি বিতর্কের কথা জানতে পেরে তিনি ‘বিস্মিত এবং আহত’।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার বার্তা নিয়ে রবিবার প্রতিবাদ সভায় হাজির ছিলেন চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন, যোগেন চৌধুরী থেকে শুরু করে সুবোধ সরকার, জয় গোস্বামী, কবীর সুমন, ব্রাত্য বসু সহ একাধিক বুদ্ধিজীবীরা।

প্রতিবাদ সভার শুরুতেই এদিন বক্তব্য রাখেন কবীর সুমন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এর বিরুদ্ধে বিশ্বভারতীর এই পদক্ষেপকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন ” বিজেপির সম্পর্কে কথা বলা মানে বাবলা গাছকে আলিঙ্গন করার মত। যারা আজ অমর্ত্য সেন নিয়ে বলছেন তাদের তো অমর্ত্য বাবু নিয়ে রাগ হবেই। বাঙালিকে ওরা রাগিয়ে দিচ্ছে।”

মন্ত্রিসভার সদস্য ব্রাত্য বসু বলেন ” এই সরকার যারা গলা তুলেছে তাদেরকে আটকানোর চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষের কি হাল করতে পারে এই সরকার তা এই দেখেই বোঝা যায়।”

বিশ্বভারতীতে জমি বিতর্কে অমর্ত্য সেন সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাড়িটা বানানো হয়েছিল প্রায় ৮০ বছর আগে। বাবা বাজার থেকেই জমি কিনেছিলেন, ৫০ বছর পর হঠাৎ কেন বিতর্ক, জানা নেই। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণে এই সমস্যা কি না তাও জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

দিন কয়েক আগে বিশ্বভারতীর একটি অংশ দাবি করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি দখল করে রেখেছেন অনেকেই, যে তালিকায় রয়েছেন অমর্ত্য সেনও। যা নিয়ে শুরু হয় জোর বিতর্ক।

তিনি ইতিমধ্যে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে ভাবছেন বলেও জানান। আপাতত তাঁর বাড়ি প্রচীতি যে জমির উপর তৈরি সেখানকার লিজ নিয়েও কোনওরকম গন্ডোগোল নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জেরেই তাঁকে এই বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত অমর্ত্যবাবুর।

সূত্র: কলকাতা২৪x৭

আর/০৮:১৪/২৮ ডিসেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language