শুক্রবার কানাডাতেই সমাহিত হবেন কবি আসাদ চৌধুরী

টরন্টো, ০৬ অক্টোবর – বাংলা একাডেমি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আসাদ চৌধুরীর নামাজে জানাজা শুক্রবার কানাডার স্থানীয় সময় বাদ জুমা টরন্টোর নাগেট মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মসজিদের অভ্যন্তরে আধা ঘণ্টা রাখা হবে কবির মরদেহ। এরপর স্থানীয় পিকারিং ডাফিন মেডোজে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কানাডার অশোয়া শহরের লেকরিজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আসাদ চৌধুরী।
দীর্ঘদিন ধরে কানাডার টরেন্টোতে একমাত্র মেয়ে নুসরাত জাহান চৌধুরীর সঙ্গে থাকছিলেন আসাদ চৌধুরী। বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় এই কবির বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। গত এক বছর ধরে ব্লাড ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছাড়াও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
কবি আসাদ চৌধুরী বাংলাদেশের প্রধান কবিদের অন্যতম। তিনি তার আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গী, টেলিভিশনে জনপ্রিয় সব অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও উপস্থাপনার জন্য পরিচিত। মৌলিক কবিতা ছাড়াও শিশুতোষ গ্রন্থ, ছড়া, জীবনী এবং অনুবাদকর্মে তার অবদান প্রণিধানযোগ্য। ১৯৮৩ সালে তার রচিত ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এছাড়া একই বছর তিনি সম্পাদনা করেন বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভিত্তিক গ্রন্থ ‘সংগ্রামী নায়ক বঙ্গবন্ধু’।
কবি আসাদ চৌধুরী ১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।। ১৯৬০ সালে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে তিনি উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকে যাওয়ার পর কলেজে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে কবি আসাদ চৌধুরীর চাকুরিজীবন শুরু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীকালে তিনি বিভিন্ন খবরের কাগজে সাংবদিকতা করেছেন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি ভয়েজ অব জার্মানীর বাংলাদেশ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে যোগদান করে দীর্ঘকাল চাকুরীর পর এর পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
আইএ/ ০৬ অক্টোবর ২০২৩









