ব্যবসা

করোনায় ভারতের চা শিল্পে ধসের আশঙ্কা

নয়াদিল্লী, ২৫ ডিসেম্বর- শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এবার অন্তত ৭০ শতাংশের বেশি ছোঁয়াছে হয়ে ছড়াচ্ছে এই প্রাণঘাতি ভাইরাস। তার প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে গোটা দুনিয়ায়। বন্ধ হতে শুরু করেছে একের পর এক সীমান্ত। এরই মধ্যে সৌদি আরব, ব্রিটেনসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলো বিমান যোগাযোগ বন্ধ করেছে।

এরই প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভারতের চা শিল্পে। প্রথম দফায় ধুঁকতে থাকা বিশ্বের অর্থনীতির মন্দার প্রভাবও এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশটির এ খাত।

যদিও ভারত চা উৎপাদন ও রফতানিতে বিশ্বের দ্বিতীয়। তবুও উৎপাদন আর বিক্রয়ে ভাটা পড়লে এ খাত সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়ছেন বিপাকে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চা বাণিজ্যের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ জোগান দেয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশটি।

ইন্ডিয়ান টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইটিইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে (এপ্রিল ২০১৯ থেকে মার্চ ২০২০) ভারত আন্তর্জাতিক বাজারে ২৫ কোটি কেজি চা রফতানি করে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে রফতানি ২৮ শতাংশ কমে ১৮ কোটি কেজিতে নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই বলা যায় করোনার ধাক্কায় দেশটি থেকে চা রফতানি সাত কোটি কেজি কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

’ভারতের চা রফতানি কমার পেছনে করোনা মহামারির প্রভাব সুস্পষ্ট। লকডাউনের সময় উৎপাদন কমেছে। বাড়তির দিকে রয়েছে দাম। আর সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে পানীয় পণ্যটির সামগ্রিক রফতানিতেও।’ ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন আইটিইএর চেয়ারম্যান অংশুমান কনোরিয়া।

আরও পড়ুন : পাকিস্তানে একটি ডিমের দাম ৩০ রুপি

ভারতে প্রতি বছর গড়ে ১৩০ কোটি কেজির মতো চা উৎপাদন হয়। এর মধ্যে অর্থোডক্স গ্রেডের পরিমাণ ১০ শতাংশেরও কম। প্রতি বছর উৎপাদিত ১১ কোটি কেজি অর্থোডক্স চায়ের প্রায় ৯০ শতাংশ রফতানি করা হয়। চলতি অর্থবছরে অর্থোডক্স চায়ের উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা পানীয় পণ্যটির রফতানি কমাতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।

অন্যদিকে সিটিসি গ্রেডের চা ভারতের মোট রফতানি হওয়া চায়ের প্রায় ৬০ শতাংশ। গত জুলাই-আগস্টে এ গ্রেডের চায়ের গড় দাম এক বছরের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০০-১২০ রুপি বেড়েছে। বাড়তি দাম পানীয় পণ্যটির রফতানি কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সূত্রঃ সময় নিউজ
আডি/ ২৫ ডিসেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language