একে একে চলে গেলেন মিঠুন-আরতির তিন মেয়ে

চট্টগ্রাম, ১৩ জুলাই – ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর আগুনে দগ্ধে ২৩ দিনের ব্যবধানে একে একে তিন মেয়েকে হারিয়ে দিশেহারা মিঠুন-আরতি দম্পতি। আগুন নামের দৈত্য একে একে কেড়ে নিল তাদের তিন মেয়ের প্রাণ। তাদের সংসারের সব সুখ যেন কেড়ে নিল আগুন। মাত্র ১৯ দিনে একে একে মারা যায় তাদের তিন মেয়ে সাকসি, সারথি ও হ্যাপি।
দুই বোনের মৃত্যুর পর বুধবার ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান ছোট মেয়ে হ্যাপি দাস। ছোট মেয়ে হ্যাপির মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে রাতেই চট্টগ্রামের বান্ডেল রোডের বাসায় ফিরছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ২০ জুন নগরের বান্ডেল রোডের বাসায় বিস্ফোরণের পর আগুনে দগ্ধ হয়েছিল আরতি-মিঠুনের চার মেয়ে। আরতি ও মিঠুন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
জানা গেছে, ওই দিন ভোরে চার মেয়েকে ঘরে রেখে কাজে গিয়েছিলেন মিঠুন ও আরতি। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঘরের ভেতরে একটা বিকট শব্দ হওয়ার পর পুরো ঘরে আগুন ধরে যায়। এতে দগ্ধ হয় তাদের চার মেয়ে সারথি (১৫) সাকসি (১১), হ্যাপি (৮) ও সুইটি (৩)। তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠান প্রতিবেশীরা। সবার ছোট তিন বছরের সুইটি কম দগ্ধ হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়ে ওঠে। গত ২২ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য সারথী ও হ্যাপিকে পাঠানো হয় ঢাকায়। তাদের সঙ্গে যান মা আরতিও। ২৪ জুন সকালে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সাকসি।
মেয়েকে শেষবারের মতো দেখতে আরতিকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসা হয় চট্টগ্রামে। সাকসির সৎকার শেষে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন দুই মেয়ে সারথি ও হ্যাপির কাছে পুনরায় ছুটে যান আরতি। সঙ্গে যান তার স্বামী মিঠুনও। গত ৩০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বড় মেয়ে সারথি দাস। মেয়ের লাশ নিয়ে চট্টগ্রাম আসেন এ দম্পতি। সৎকার শেষে পুনরায় ফিরে যান ঢাকায়। আজ (বুধবার) হ্যাপিও চলে যায় না ফেরার দেশে।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ১৩ জুলাই ২০২৩









