ছবিতে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়ায় ছুরিকাঘাত, ফের হামলার আশঙ্কা!

রাজশাহী, ০৩ এপ্রিল – দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত রাজশাহী কলেজের ছাত্র তিহাম আহম্মেদের ওপর হামলাকারীদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। এমন কী মামলার পরও প্রধান আসামি কাননসহ তার সহযোগীরা আদালতে আত্মসমর্পণ করেননি।
ফেসবুকে সহপাঠীর ছবিতে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়া নিয়ে বিতর্কের জের ধরে গত ১ ফেব্রয়ারি হামলার এ ঘটনা ঘটে। মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তিহামকে ছুরিকাঘাত এবং লোহার রড দিয়ে মারধর করেন তার সহপাঠী গোলাম কিবরিয়া কানন ও তার বহিরাগত সহযোগীরা।
অভিযোগ উঠেছে, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকেই প্রধান আসামি কানন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি প্রতিনিয়ত মামলা প্রত্যাহারের জন্য তিহামকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ ধরনের একটি অডিও রেকর্ডও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অজ্ঞাত কারণে কানন এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করছেন না বলে স্বজনরা অভিযোগ করছেন।
হামলার শিকার তিহাম বলেন, ‘কয়েকদিন আগে কানন আমাকে ফোন দিয়েছে। ফোন দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। ফোনের অডিও রেকর্ড আমার কাছে আছে। এ অবস্থায় আমি অসহায়বোধ করছি। বাড়িতে বন্দী আছি। কলেজে যেতে পারছি না। ফলে লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। আবারও যেকোনো সময় আমার ওপর হামলার আশঙ্কা করছি। শারীরিক অবস্থাও খুব খারাপ। পুলিশ কানন এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করলে এমনটি ঘটত না।’
তিহামের বড় বোন শাকিলা আফরোজ বলেন, ‘তিহামকে লোহার রড এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায় তারা। ছুরিকাঘাতে তিহামের ডান পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ঠিকভাবে হাটতে পারছে না। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত চিহ্ন রয়েছে। তিহাম রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনো খুব খারাপ। উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাননকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে সে। কানন বিভিন্নভাবে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।’
কাননকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ সোহাগ বলেন, ‘কানন রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বিদিরপুর এলাকার বাসিন্দা। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য দুবার তার গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।’
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রফিকুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হবে। আসামি যেন দ্রুত গ্রেপ্তার হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে। এ ছাড়া হামলার শিকার তিহাম এবং তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সতর্ক থাকবে।’
সূত্র: আমাদের সময়
এম ইউ/০৩ এপ্রিল ২০২৩









