শিক্ষা

দেশ সেরা প্রধান শিক্ষক হলেন রাজবাড়ীর শহিদুল

রাজবাড়ী, ০৪ নভেম্বর- প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেশ সেরা প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম।

২০১৯ সালের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ্ উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে দেশ সেরা প্রধান শিক্ষক হিসাবে ঘোষণা করেন।

কিন্তু কেন তাকে দেশ সেরা প্রধান শিক্ষক ঘোষণা করা হলো? বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করলে শহিদুল ইসলামের শত শত মহতি কাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের চাক্ষুস প্রমাণ মেলে।

দেশের মধ্যে তিনিই প্রথম তার বিদ্যালয়ে “সততা স্টোর” নামে বিক্রেতাহীন দোকান স্থাপন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। যে দোকানে শিশু শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার সব উপকরণসহ বিভিন্ন খাবারই রয়েছে। প্রতিটি পণ্যের উপর দাম নির্ধারণ করা রয়েছে। কিন্তু কোন দোকানদার নেই। শিক্ষার্থীরা নিজেদের সততা ও মানসিকতার পরীক্ষা দিয়ে দোকান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে নিয়ে যাচ্ছে এবং পণ্যের উপর নির্ধারিত দাম একটি বাক্সে রেখে চলে যাচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে আজ অবধি তিনি কোন নৈমত্তিক ছুটি ভোগ করেননি। বরং সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ করে থাকেন।

বিদ্যালয়ের ভালো ফলাফলের জন্যে তিনি সরকার ঘোষিত সময়-সূচির বাইরে বৈকালিক ও নৈশকালীন বিদ্যালয় চালু করেছেন। যেখানে অনেক শিক্ষকই স্কুল ফাঁকি দিতে বিভিন্ন বাহানা করেন সেখানে নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দানে তিনি বৈকালিক ও নৈশকালীন স্কুল খুলে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।

তার সবচেয়ে বড় গুণ তিনি নিজ হাতে বিদ্যালয়টিকে শিশুবান্ধব করে সাজিয়েছেন। এরজন্যে তিনি ব্যক্তিগত সাড়ে ৭ লাখ টাকাও বিদ্যালয়ে অনুদান দিয়েছেন। তাছাড়া বিদ্যালয়ে এসে তিনি অনেক সময় নিজ হাতেই বিদ্যালয়ের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে থাকেন। কখনো কখনো তাকে ঝাঁড়ু হাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিস্কার করতেও দেখা গিয়েছে। কিংবা বিদ্যালয়ের কোন কাজে নিজেই হাত বাড়িয়ে সেটি করার চেষ্টা করেন।

দেশ সেরা এই শিক্ষক তার বিদ্যালয়টিকে শিশু বান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য নিজের অনুদানের টাকা ও স্হানীয়দের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার, গ্রন্হাগার, নামাজ ঘর, শহীদ মিনার, উপকরণ কর্ণার, মিনা রাজু পার্ক, পতাকা মঞ্চ, রিডিং কর্ণার, আমাদের ভুবন, বিদ্যালয় চত্বরে পশু-পাখির মুরালসহ বিভিন্ন স্থাপনা তিনি তৈরি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার যা অর্জন তা সব আমার প্রিয় শিক্ষার্থীদের জন্য। আর আমি যা কিছু করতে পেরেছি তা আমার সহকর্মী ও শিক্ষা বিভাগের স্যারদের সার্বিক সহযোগিতার কারণে স্থানীয়দের সহযোগিতাও ভোলার না। আমি সবার প্রতিই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আবুল কালাম আজাদ বলেন, একটি অজপাড়া গাঁয়ে তিনি যেভাবে বিদ্যালয়টি সাজিয়েছেন তা এখন দেশের মডেল। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উচিত শহিদুল ইসলামের কর্মমকাণ্ডকে ফলো করা। যেখানে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই হযরলব আর দুর্নীতিতে ভরা সেখানে একজন প্রধান শিক্ষক তার আদর্শ, মেধা আর প্রজ্ঞা দিয়ে যেভাবে সাজিয়েছেন তা অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। আমরা তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছি।

আরও পড়ুন : জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি, একাংশের বিক্ষোভ

মো: শহিদুল ইসলাম ১৯৭১ সালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো: আব্দুল হালিম ও মাতার নাম মোছা: সাহিদা বেগম। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জনক। তার সহধর্মিনী গৃহিণী। তিনি বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন এবং ১৯৯৮ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক হিসাবে চাকরিতে প্রথম যোগদান করেন।

সূত্রঃ বার্তা ২৪
আডি/ ০৪ নভেম্বর


Back to top button
🌐 Read in Your Language