জাল নোটের গুরু সাবেক সিপাহি কাজী মাসুদ পারভেজ

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর- অধুনালুপ্ত বিডিআরের সিপাহি ছিলেন কাজী মাসুদ পারভেজ। পাহাড়ি অঞ্চলের সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময়ে ভুলে নিজের গুলিতেই আহত হন। চিকিৎসা চললেও মেডিকেলের পরিভাষায় ‘আনফিট’ হয়ে পড়ায় চাকরিতে আর ফিরতে পারেননি। এরপর তিনি নেমে পড়েন মানুষকে ঠকানোর ব্যবসায়।
সীমান্তকেন্দ্রিক নানা অপরাধ সম্পর্কে বেশ ধারণা ছিল কাজী মাসুদের। সেই ধারণাকে পুঁজি করে কথিত কষ্টিপাথর, সীমান্তের পিলার পাচার, টাকা ডাবল করার স্কিম থেকে জাল টাকা তৈরির মতো প্রতারণামূলক বাণিজ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। হয়ে ওঠেন জাল নোটের গুরু। গত শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিলে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তিনি প্রকাশ করেন তার প্রতারণার নানা কাহিনি।
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র জানায়, কাজী মাসুদ পারভেজ জাল টাকা ও জাল ডলার তৈরি চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। তার চক্রের তৈরি করা জাল টাকা আর ডলার দেশের চেয়ে বিদেশেই বিক্রি হয় বেশি। এজন্য কলকাতায় তাদের নিজস্ব এজেন্টও রয়েছে। প্রতারণা আর জাল নোটের বাণিজ্য করে তিনি মালিক হয়েছেন ডেইরি ফার্ম আর আইটি ফার্মের। ঢাকায় করেছেন একাধিক বাড়ি, নামে-বেনামে ব্যাংকে গচ্ছিত রেখেছেন লাখ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দিনদুপুরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি!
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল এ প্রতিবেদককে বলেন, গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাজী মাসুদ পারভেজসহ তার চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫৮ লাখ টাকার জাল নোট ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। ওই মামলায় তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ পারভেজ বেশকিছু তথ্য দিয়েছেন। ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, মাসুদ পারভেজের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
রিমান্ডে মাসুদ পারভেজ দাবি করেছেন, ১৯৯৪ সালে তিনি তৎকালীন বিডিআরে (বর্তমানে বিজিবি) সিপাহি পদে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৪ সালের দিকে হিলি সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময় মিস ফায়ারিংয়ে তার পায়ে গুলি লাগে। চিকিৎসার পরও তিনি মেডিকেলি আনফিট হওয়ায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তবে তার এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
ডিবির তেজগাঁও বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, ২০০৬ সাল থেকে তিনি জাল টাকার ব্যবসা শুরু করেন। একপর্যায়ে গ্রুপ তৈরি করে জাল টাকা এবং জাল ডলার তৈরিও শুরু করেন। সীমান্তের পথঘাট তার চেনা থাকায় কলকাতায় তিনি জাল নোট ও ডলার পাচার করতেন। বাংলাদেশি মুদ্রা আর ডলারের চাহিদা থাকায় সেখানে সিন্ডিকেটও গড়ে তোলেন তিনি। চিকিৎসাসহ নানা কাজে যেসব বাংলাদেশি কলকাতায় যেতেন, তাদের অনেকেই তার জাল নোটের কারণে প্রতারিত হয়ে বিপদে পড়তেন। এক লাখ টাকার জাল নোট মাসুদ পারভেজ কলকাতার সিন্ডিকেটের কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন।
ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, সাবেক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় মানুষ কাজী মাসুদকে সহজেই বিশ্বাস করে ফেলত। কথিত কষ্টিপাথরের ব্যবসা, বিনিয়োগের মাধ্যমে টাকা ডাবল করার স্কিম ইত্যাদি উদ্যোগের মধ্য দিয়েও প্রতারণা করতেন মাসুদ। ডিবি কর্মকর্তা জানান, রিমান্ড শেষ হলে তার প্রতারণার আরও নানা দিক উঠে আসবে।
সূত্র: সমকাল
আর/ ২৬ অক্টোবর









