এশিয়া

‘চীনের জন্য কৃত্রিম দ্বীপগুলো ক্ষতিকর হতে পারে’

বেইজিং, ২৮ জুন – দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকায় কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করেছে চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অভিযোগ, সেখানে সামরিক ঘাঁটি তৈরির পাশাপাশি চীন জলপথ ব্যবহার করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে জাপান দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপগুলো দখল করে নেয়। জাপানের পরাজয়ের পর ১৯৪৩ ও ১৯৪৫ সালের কায়রো ও পটসডাম ঘোষণার মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপগুলোয় প্রজাতন্ত্রী চীনের অধিকার স্বীকৃত হয়। ১৯৪৭ সালে তৎকালীন জাতীয়তাবাদী চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫৯ দ্বীপ, ক্ষুদ্রদ্বীপ ও বালুচর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের আওতাধীন করে নেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময় থেকে আজ পর্যন্ত সঙ্ঘটিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাবলি দক্ষিণ চীন সাগরকে বর্তমান দুনিয়ার উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত করেছে।

দক্ষিণ চীন সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের প্রশ্নে বড় ধরনের বিরোধ রয়েছে। মতবিরোধের মূল কারণ, দক্ষিণ চীন সাগরের ৮০ শতাংশের ওপর চীন তার সার্বভৌমত্ব দাবি করছে, যা উপকূলবর্তী অন্য দেশগুলোর জন্য উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে লেখক রবার্ট ফারলি দি ন্যাশনাল ইন্টারেস্টে এক ব্লগে লিখেছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে মূলত স্প্রেটলি এবং প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জে অসংখ্য সামরিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠা করেছে চীন। স্প্রেটলিসে চীন কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, হেলিকপ্টার পরিকাঠামো ও এয়ারফিল্ড তৈরি করেছে। চীন এই অঞ্চল জুড়ে নির্মাণ চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহত্তর ঘাঁটিগুলিতে সামরিক বিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সেনা ও বৃহত্তর টহল দল। এর অর্থ হচ্ছে, চীন ভবিষ্যতে তার সামরিক ঘাঁটির প্রসার করবে।

রবার্ট ফারলি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলি কোনো সংঘাতের মধ্যে কীভাবে টিকে থাকবে? কৃত্রিম দ্বীপগুলো চীনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এই কৃত্রিম দ্বীপগুলো উন্মুক্ত। স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিমান আক্রমণ থেকে বেঁচে যায়। কারণ তখন পাহাড় ও বনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা যায়। তবে চীন যে দ্বীপগুলো তৈরি করেছে তাতে কোনো বন বা পাহাড় নেই যে লুকিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করা যায়। এখানে আক্রমণ করলে মনুষ্যনির্মিত প্রতিরক্ষামূলক স্থাপনাগুলোও বাঁচতে পারবে না।

তিনি লিখেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারীরা জ্বালানি, শক্তি এবং যুদ্ধের জন্য শক্তিশালী লজিস্টিক্যাল নেটওয়ার্কের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু চীন এসব কৃত্রিম দ্বীপে নির্ভরযোগ্যভাবে তা সরবরাহ করতে সক্ষম নয়।

সূত্র: সমকাল
এম ইউ/২৮ জুন ২০২১


Back to top button
🌐 Read in Your Language