চট্টগ্রাম

সফটওয়্যারের মাধ্যমে কর্মীদের অর্থ হাতিয়েছেন হিসাব নিরীক্ষক!

চট্টগ্রাম, ০৯ মে– ফয়সাল মাহমুদ, চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর টিকিট প্রিন্টিং কলোনিতে বসবাস করেন তিনি। বাংলাদেশ রেলওয়ের শাখায় জুনিয়র নিরীক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। মূলত রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের হিসাব-নিকাশের দেখভাল করতেন তিনি। পূর্বাঞ্চলের কর্মীদের বেতনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফয়সাল মাহমুদকে আটক করেছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। নগরের পাহাড়তলীর রেলওয়ে কার্যালয় থেকে গতকাল শনিবার তিনি আটক হন।

জানা গেছে, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেওয়ার জন্য ‘আইভাস’ নামে একটি সফটওয়ার মাধ্যম চালু করা হয়। গত সেপ্টেম্বর থেকে সিস্টেমটি চালু করে প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছিল। এ পদ্ধতির বিষয়ে ফয়সালসহ কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

রেলের কর্মকর্তারা বলেন, সম্প্রতি এক কর্মকর্তা ফয়সাল মাহমুদের কারসাজির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই শুরু হয়। পরে আইভাস সিস্টেমের মাধ্যমে অর্থ জালিয়াতির এ ঘটনা ধরা পড়ে।

আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করে রেলের পূর্বাঞ্চলের প্রধান অর্থ ও হিসাব কর্মকর্তা (পূর্ব) কামরুন্নাহার জানান, আইভাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফয়সাল নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কর্মীদের অর্থ হাতিয়েছেন। তিনি কত টাকা সরিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ফয়সাল লাখ টাকা সরিয়েছেন, তবে পরিমান আরও বড় হতে পারে বলেও জানান কামরুন্নাহার।

তিনি আরও জানান, ফয়সালের কাছ থেকে আত্মসাতকৃত অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান।

এদিকে, ফয়সাল মাহমুদ ঠিক কী পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, সে হিসাব পুরোপুরি না মিললেও তিনি পারিবারিক ও স্ত্রীর নামে জমি কিনেছেন বলে জানিয়েছে রেলওয়ের একটি সূত্র। সূত্রটি আরও জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের হিসাব শাখার এই জুনিয়র নিরীক্ষক কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়েছেন, এমন প্রমাণ প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে। অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

হিসাব শাখার এক কর্মীর আত্মসাতের ঘটনা জেনেছেন বলে জানিয়েছেন রেলের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র : আমাদের সময়
এম এন / ০৯ মে


Back to top button
🌐 Read in Your Language