জাতীয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ৬ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ! আটক ২

ঢাকা, ০৮ নভেম্বর – দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ফের নাশকতার আতঙ্ক। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর পর ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার পরপরই ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

যেসময়ে ও যেসব স্থানে ঘটল বিস্ফোরণ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটের দিকে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো টিএসসি ও এর আশপাশের এলাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন মোড় এবং সিনেট ভবনের পাশে প্রথম হাতবোমা ফাটানো হয়।

এর ঠিক পরপরই ক্যাম্পাসের অন্যান্য পয়েন্টে বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী—আইএমএল (আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট)-এর কাছে, ইউল্যাব স্কুলের সামনে, নীলক্ষেত মোড়ে এবং নীলক্ষেত তোরণের কাছে পর পর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিস্ফোরণ ঘটায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত একত্রিত হতে শুরু করেন।

ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করল শিক্ষার্থীরা

টিএসসির মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের সাথে সাথেই উপস্থিত সচেতন শিক্ষার্থীরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সন্দেহভাজন দুজনকে ধাওয়া করেন। শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে তাদের ধরে ফেলে এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে নিয়ে যান। পরবর্তীতে শাহবাগ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ সদস্যরা এসে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেন।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “মেট্রো স্টেশনের নিচে ককটেল বিস্ফোরণের পরপরই শিক্ষার্থীরা দুজনকে আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান। খবর পেয়ে আমরা তাদেরকে হেফাজতে নিয়েছি। বর্তমানে থানা হেফাজতে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাশকতার সাথে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”

আতঙ্কে ক্যাম্পাস, নিরাপত্তা জোরদার

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুরক্ষিত স্থানে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়। রাজধানী জুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার যে ঘটনা ঘটছে, ঢাবিতে ঘটা এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ তারই অংশ বলে মনে করছেন অনেকে।

ঘটনার পর পর শাহবাগ থানা পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাস জুড়ে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এনএন/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language