নিবন্ধন পরীক্ষার বদলে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ, প্রিলিমিনারি-লিখিত-মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তাব

ঢাকা,০৮ নভেম্বর-শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। নতুন প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনেও পরিবর্তন আসতে পারে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এনটিআরসিএর প্রস্তাবিত নতুন নিয়োগ পদ্ধতিতে তিন ধাপে মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকতে পারে। এর মধ্যে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি, ১০০ নম্বরের লিখিত এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মূলত বিধিমালা সংশোধনের পরই চূড়ান্ত সিলেবাস ও পরীক্ষার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে।
প্রিলিমিনারিতে চার বিষয়, নেগেটিভ মার্কিং
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এক ঘণ্টার ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে। অন্যদিকে, প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। এ ধাপে পাস করতে পরীক্ষার্থীদের কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান রাখা হয়েছে। প্রতিটি বিষয় থেকে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এ পরীক্ষার জন্য তিন ঘণ্টা সময় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা।
তবে প্রস্তাবিত এই পদ্ধতি চালু করতে হলে বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। সংশোধিত বিধিমালা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষার ধাপ, সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনের কোনো বিষয়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে না।
নিবন্ধন নয়, সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ
এবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় শুধু পরীক্ষার পদ্ধতিতেই নয়, নিয়োগপ্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আসছে। আগে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করা হতো। এরপর আলাদা প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হতো। নতুন ব্যবস্থায় নিবন্ধনের মাধ্যমে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরিবর্তে পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ফলে আগের ধারাবাহিকতায় ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এর পরিবর্তে আয়োজন করা হবে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা।
এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা চলছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে ডিসেম্বরেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর পরীক্ষার তারিখসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এর আগে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল এনটিআরসিএ। ওই পরীক্ষার প্রিলিমিনারি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের মার্চে। এরপর দীর্ঘ সময় নতুন নিবন্ধন পরীক্ষার কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এবার সেই নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তে নতুন পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এস এম/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬







