জাতীয়

দেশে ১৭ লাখ টন চাল ও ৩ লাখ টন গম মজুত রয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা

ঢাকা,০৮ নভেম্বর-খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্যের মজুত বজায় রাখছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

রবিবার খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চাল আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশে বর্তমানে চালের সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক। গত বোরো মৌসুমে ভালো উৎপাদন হওয়ায় বাজারে পর্যাপ্ত চাল রয়েছে। সরকারও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মজুত বজায় রাখছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চাল আমদানির চুক্তিও রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের মোট চালের চাহিদার বড় একটি অংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে পূরণ হয়। তবে কোনো কারণে উৎপাদন বা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি থাকা জরুরি। খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের ভালো অবস্থানে নেওয়া এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে খাদ্যের অভাবে কোনো মানুষকে কষ্ট পেতে না হয়।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, কৃষকরা যাতে সরকারের নির্ধারিত দামে ধান বিক্রি করতে পারেন, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ টন। তবে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরও বাজারে ধান পাওয়া গেলে তা সংগ্রহের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বোরো মৌসুমেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সরকারের কাছে বর্তমানে ১৭ লাখ টন চাল ও ৩ লাখ টন গম মজুত রয়েছে। সরকারকে সারা বছর প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রাখতে হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এ মজুত ১৫ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য থাকে।

আমন মৌসুমে ধান ও চালের সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার প্রতি কেজি ধান ৩৫ টাকা এবং সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা দরে সংগ্রহ করা হবে। আতপ চালের উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এর সংগ্রহমূল্যও কম রাখা হয়েছে।

সুগন্ধি চাল রপ্তানির বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে এ চালের চাহিদা অনেক বেশি। আগে অল্প পরিমাণে রপ্তানি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের যেসব এলাকায় এখনো সুগন্ধি চাল উৎপাদিত হয় এবং কৃষকদের এ চাষে আগ্রহ রয়েছে, সেসব এলাকা পরিদর্শন করবে তিন মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি। কোন এলাকার আবহাওয়া ও জলবায়ু কোন ফসলের জন্য উপযোগী, তা বিবেচনায় নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ও একটি সমীক্ষা করছে। সুগন্ধি চালের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন হলে কৃষকদের বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে।

এ সময় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এস এম/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language