সম্পাদকের পাতা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি-ভিডিও সংক্রান্ত অভিযোগে ফ্লোরিডায় গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী

নজরুল মিন্টো

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী রাইয়ান আবদুল বাতেন। বাংলাদেশে প্রকৌশলবিদ্যায় স্নাতক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই শিক্ষকের নাম এবার উঠে এসেছে এক অস্বাভাবিক ফৌজদারি অভিযোগে। প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ অথবা সংরক্ষণের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ফ্লোরিডার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টিতে রাইয়ান আবদুল বাতেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৯ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে নথিভুক্ত অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার টাম্পাবাস্টসে তাঁর নামের পাশে যে অভিযোগটি উল্লেখ করা হয়েছে, তার ইংরেজি বিবরণ হলো ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity With an Animal’। অর্থাৎ কোনো মানুষের সঙ্গে প্রাণীর যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ অথবা নিজের কাছে সংরক্ষণ করা।

গ্রেপ্তারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশকারী আরেকটি মার্কিন তথ্যভান্ডার, আমেরিকাস টপ মাগশটে, বাতেনের গ্রেপ্তারের সময় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ অক্টোবর সকাল ৯টা ৩৪ মিনিট। সেখানে তাঁর গ্রেপ্তারকারী সংস্থা হিসেবে টাম্পা পুলিশ বিভাগের নাম রয়েছে। তাঁর বয়স ৩২ বছর। ওই তথ্যভান্ডারে একই ধরনের অভিযোগের ছয়টি পৃথক এন্ট্রি দেখা যায়।

ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে অভিযুক্ত ব্যক্তির শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয়ের কারণে। তিনি কোনো সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কম্পিউটারবিজ্ঞানবিষয়ক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত একজন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয় রয়েছে।

রাইয়ান আবদুল বাতেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টার থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মানুষের সঙ্গে কম্পিউটারের যোগাযোগ, আবেগ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ, মেশিন লার্নিং, প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ এবং বিভিন্ন তথ্যের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ। (পুনরাবৃত্তি।)

নিজের পেশাগত পরিচিতিতে বাতেন জানিয়েছেন, তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বেলিনি কলেজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড কম্পিউটিংয়ে সহকারী অধ্যাপক এবং কম্পিউটেশনাল সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড এআই ল্যাবের পরিচালক। এই গবেষণাগারে মানুষের আচরণ, যোগাযোগ, সামাজিক প্রভাব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মানুষের দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়। (পুনরাবৃত্তি।)

তাঁর গবেষক পরিচিতির আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার অরসিডে দেখা যায়, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনিভার্সিটি অব রচেস্টারে পিএইচডি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেন। ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।

শিক্ষাজীবনে ও পেশাগত গবেষণায় এমন অবস্থানে পৌঁছানো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাণীর যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি বা ভিডিওর অভিযোগ ওঠার বিষয়টি তাই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পুলিশের নথিতে ব্যবহৃত আইনি বিবরণে তিনটি পৃথক অপরাধের কথা রয়েছে। ছবি বা ভিডিও ধারণ করা, অন্যের কাছে বিতরণ করা অথবা নিজের কাছে রাখা সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় প্রত্যেকটি অপরাধ।

ফ্লোরিডার আইনসভায় প্রকাশিত ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের ৮২৮.১২৬ ধারায় প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন অপরাধ আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আইনের ছয় নম্বর উপধারা অনুযায়ী, প্রাণীর সঙ্গে মানুষের নিষিদ্ধ যৌন কর্মকাণ্ডের অশ্লীল ছবি বা ভিডিও জেনেশুনে ধারণ, বিতরণ কিংবা সংরক্ষণ করা তৃতীয় মাত্রার গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলে এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির সঙ্গে একটি ছাগলের সংশ্লিষ্টতার দাবি ছড়িয়ে পড়েছে।

মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে আদালতে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ, তদন্তকারীদের উপস্থাপিত প্রমাণ এবং অভিযুক্তের পক্ষের বক্তব্য। গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হলেও তিনি অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, আদালতে তাঁর পক্ষে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না কিংবা মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ কী, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র:
The Document
America’s Top Mugshots
Hillsborough County Sheriff’s Office, Florida

Back to top button
🌐 Read in Your Language