জন্ম থেকেই দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে তাক লাগিয়ে দিলেন রংপুরের কলি রানী

রংপুর, ৩১ অক্টোবর – শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অসামান্য এক সাফল্যের নজির গড়লেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী কলি রানী। জন্ম থেকেই দুই হাতে আঙুল না থাকার কারণে ছোটবেলা থেকেই পা দিয়ে লেখার অনন্য অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি। শত প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের পথ পেরিয়ে এবার কাউনিয়া কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৫০ অর্জন করেছেন এই অদম্য তরুণী।
সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের মৃত মনোরঞ্জন রায় ও রূপালী রানীর তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে সবার ছোট কলি। যখন তিনি মাত্র তৃতীয় শ্রেণীতে পড়েন, তখনই বাবাকে হারান। তবে চরম পারিবারিক সংকট আর জন্মগত শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার অদম্য পড়াশোনার স্পৃহাকে দমাতে পারেনি। মায়ের অকৃত্রিম স্নেহ, সাহস এবং শিক্ষক-সহপাঠীদের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে গেছেন তিনি।
এর আগেও তার এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ছিল অব্যাহত:
- পা দিয়ে লিখেই তিনি সাফল্যের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
- পরবর্তীতে একই পদ্ধতিতে এসএসসি পরীক্ষাও সাফল্যের সঙ্গে পাস করেন।
- আর এবার এইচএসসিতে জিপিএ-৩.৫০ পেয়ে নিজের উচ্চশিক্ষার পথ আরও এক ধাপ প্রশস্ত করলেন।
কলেজের আনন্দ ও প্রতিক্রিয়া
কাউনিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফারুক আজম কলি রানীর এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে জানান যে, কলি তার অদম্য মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে ইচ্ছা থাকলে শারীরিক বাধাকে পেছনে ফেলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
আকাশচুম্বী স্বপ্ন
শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কখনোই নিজের দুর্বলতা হিসেবে দেখেননি কলি রানী। তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনেক বড়; উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি একজন বিসিএস ক্যাডার হতে চান এবং নিজ দেশ ও মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়েছেন। কলির এই হার না মানা জীবনযুদ্ধ ও সাফল্য এখন পুরো দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
এনএন/ ৩১ অক্টোবর ২০২৬







