সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তিকে ছাড়িয়ে গেল বিশ্ব

বেইজিং,২৯ অক্টোবর-বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিহাস গড়েছে সৌরশক্তি। উৎপাদনের দিক থেকে পারমাণবিক শক্তিকে পেছনে ফেলে সৌরবিদ্যুৎ এখন বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎসে পরিণত হয়েছে।
২০২৫ সালে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে মোট ২ হাজার ৭৭৮ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। অথচ এক দশক আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তখন সৌরবিদ্যুৎ থেকে মাত্র ২৫৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো। অন্যদিকে, পারমাণবিক শক্তি থেকে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল এর প্রায় ১০ গুণ, অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার ৫৭৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা।
এম্বারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভ জোন্স বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অর্জনকে অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, বিশ্বজুড়ে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন প্রায় প্রতি তিন বছরে দ্বিগুণ হচ্ছে। মূলত চীনের বিশাল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। দেশটি থেকে সাশ্রয়ী দামের সৌর প্যানেল ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে।
আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সাল থেকে ইউটিলিটি-স্কেল সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসাবে সৌর পিভি প্রযুক্তির দাম ৮৯ শতাংশ কমেছে। এর আগের ২০২৪ সালের সংস্করণে দাম কমার এই হার ৯০ শতাংশ বলা হয়েছিল। ওই হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সালে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ছিল শূন্য দশমিক ৪১৭ ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে শূন্য দশমিক ০৪৩ ডলারে নেমে আসে।
বর্তমানে জ্বালানি খাতে এই পরিবর্তনের বড় একটি অংশে ভূমিকা রাখছে দরিদ্র ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। ইয়েল এনভায়রনমেন্ট ৩৬০-এর তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার উদীয়মান বাজারগুলোর প্রায় ৬৩ শতাংশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় মোট জ্বালানির বড় অংশ সৌরশক্তি থেকে পাওয়া যায়। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, চিলি, এল সালভাদর, মরক্কো, কেনিয়া ও নামিবিয়া। অন্যদিকে, বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপনের ক্ষেত্রে পুরো বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান।
সৌরশক্তির এই অভূতপূর্ব প্রসারের পেছনে ব্যাটারির দাম কমে যাওয়াও অন্যতম বড় কারণ। অক্সফোর্ডের জান রোসেনোভ বিবিসিকে জানিয়েছেন, ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে দুপুরের রোদ থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সন্ধ্যায় ব্যবহারের সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে। ফলে, পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায় এমন অঞ্চলগুলোতে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারির সমন্বিত ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ অনেক সময় নতুন জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের খরচকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি এমন এক জ্বালানির উৎস হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে, যার সরবরাহ কোনো বিদেশি শক্তি চাইলেই বন্ধ করে দিতে পারে না। বিনিয়োগকারী ডেভিড ফ্রাইকম্যানও ফরচুন ম্যাগাজিনে একই যুক্তি তুলে ধরেছেন।
এস এম/ ২৯ অক্টোবর ২০২৬







