স্কারবোরো সাউথওয়েস্টে কান্দাভেলকে ঘিরে ধরেছেন রুপাসিংহে, ব্যবধান মাত্র তিন পয়েন্ট
নজরুল মিন্টো

জুনে ব্যবধান ছিল ১২ শতাংশ পয়েন্ট। আগস্টে তা নেমে আসে ছয়ে। আর ভোটের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপে সেই ব্যবধান মাত্র তিন। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্টে নিজের কাউন্সিলর পদ ধরে রাখার লড়াইয়ে পার্থি কান্দাভেল এখনো এগিয়ে আছেন। তবে তাঁর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী কেভিন রুপাসিংহে। ফোরাম রিসার্চের জরিপ বলছে, ওয়ার্ড ২০-এর এই নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে।
গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপে কান্দাভেলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা। রুপাসিংহেকে সমর্থন করেছেন ৩৮ শতাংশ। বাকি ২১ শতাংশ সমর্থন রয়েছে অন্যান্য প্রার্থীর পক্ষে। ফলে সংখ্যায় বর্তমান কাউন্সিলর এগিয়ে থাকলেও তাঁর জন্য স্বস্তির বড় ব্যবধান তৈরি হয়নি।
ফোরাম রিসার্চ ১৫ থেকে ১৮ অক্টোবর স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সী ৫৩৮ জন বাসিন্দার মধ্যে জরিপটি পরিচালনা করে। আগামী ২৬ অক্টোবর সোমবার টরন্টোর পৌর নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের ভোটাররা তাঁদের কাউন্সিলর বেছে নেবেন। মেয়র নির্বাচন নিয়ে নগরজুড়ে আলোচনার পাশাপাশি স্থানীয় এই আসনেও শেষ মুহূর্তের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গুরুত্ব পাচ্ছে।
কান্দাভেল প্রথমবার এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে। সেই নির্বাচনেও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রুপাসিংহে। দুজনের ভোটের ব্যবধান ছিল ৮০০-এরও কম। এবার আবারও মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা। একজন চাইছেন নিজের দায়িত্বের মেয়াদ বাড়াতে, অন্যজন চাইছেন আগেরবার অধরা থাকা আসনটি জিতে নিতে।
তবে এবারের নির্বাচনে কান্দাভেলকে নিজের কাজের হিসাব দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশি তদন্ত নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। টরন্টো স্টারের ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসে তিনি নিশ্চিত করেন যে তাঁকে নিয়ে অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত করছে। ২৩ অক্টোবর শুক্রবারও পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে। স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের পৃথক দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তি স্টারকে অভিযোগ করেছেন, প্রকল্পগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন থাকা অবস্থায় কান্দাভেল তাঁদের তৃতীয় পক্ষকে ছয় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন। তবে পুলিশ তদন্তের সুনির্দিষ্ট বিষয় প্রকাশ করেনি। কান্দাভেলও বারবার কোনো অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন।
গত সেপ্টেম্বরে স্থানীয় এক প্রার্থীসভাতেও তদন্তের প্রসঙ্গ ওঠে। দর্শকদের প্রশ্ন থেকে সঞ্চালক বিষয়টি তুললে কান্দাভেল বলেন, কোনো অন্যায় হয়নি এবং তিনি তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। একই সভায় রুপাসিংহে বলেন, এলাকার এমন কাউন্সিলর প্রয়োজন, যিনি অভিযোগ ও বিতর্ক ছাড়াই সব পর্যায়ের আলোচনায় এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। অন্যদিকে কান্দাভেল ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন সড়ক নিরাপত্তা, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং বাসিন্দাদের সমস্যা সমাধানে তাঁর কাজের কথা। ফলে এবারের ভোটে তাঁর কাজের প্রতি ভোটারদের আস্থার পাশাপাশি চলমান তদন্তের প্রভাবও দেখার বিষয় হয়ে উঠেছে।
দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর পারিবারিক শিকড় দক্ষিণ এশিয়ায় হলেও তাঁদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কানাডার অভিবাসী সমাজের অভিজ্ঞতা। তামিল বংশোদ্ভূত পার্থি কান্দাভেলের বাবা শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত এবং মা ভারতীয়। তাঁর পরিবার ১৯৮৮ সাল থেকে স্কারবোরো সাউথওয়েস্টে বসবাস করছে। এখানেই স্কুলে পড়েছেন তিনি, পরে শিক্ষকতা করেছেন এবং এখন নিজের সন্তানদের বড় করছেন। অন্যদিকে, সিংহলি বংশোদ্ভূত কেভিন রুপাসিংহের মা-বাবা শ্রীলঙ্কা থেকে কানাডায় আসেন। সন্তানদের জন্য ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার আশাই ছিল তাঁদের অভিবাসনের পেছনের কারণ। গাড়িশিল্পে কাজ করা সেই মা-বাবার সন্তান রুপাসিংহে পড়াশোনা করেছেন প্রকৌশলে এবং স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের ক্লিফসাইডে বসবাস করছেন।
ফোরামের আগের জরিপগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে প্রতিযোগিতা আরও কাছাকাছি আসার চিত্র পাওয়া যায়। জুনের জরিপে কান্দাভেলের সমর্থন ছিল ৩৭ শতাংশ, রুপাসিংহের ২৫ শতাংশ। আগস্টে তা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৩৩ ও ২৭ শতাংশে। সর্বশেষ জরিপে দুজনের সমর্থনই বেড়েছে, তবে ব্যবধান কমেছে। অবশ্য জরিপগুলোর নমুনা, পদ্ধতি ও প্রার্থী তালিকায় পার্থক্য থাকায় এই সংখ্যাকে সরাসরি একই ভোটারদের মত পরিবর্তনের হিসাব হিসেবে দেখা যাবে না।
সর্বশেষ জরিপের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অন্য প্রার্থীদের সম্মিলিত সমর্থন ২১ শতাংশ। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর বাইরে থাকা এই সমর্থনকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত ফলে অন্যদের পৃথক অবস্থান দেখানো হয়নি। ফলে তাঁদের মধ্যে কে কতটা এগিয়ে আছেন, এই তথ্য থেকে তা বলা যাচ্ছে না। একইভাবে এই ২১ শতাংশকে সিদ্ধান্তহীন ভোটার বলারও সুযোগ নেই।
জরিপের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ দুই প্রার্থীর ব্যবধান মাত্র তিন পয়েন্ট। তাই কান্দাভেল এগিয়ে আছেন বলা গেলেও তাঁর জয় নিশ্চিত ধরে নেওয়ার ভিত্তি নেই। রুপাসিংহেও এখনো এগিয়ে যাননি। ভোটের আগে জরিপে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কাউন্সিলর পদটি ধরে রাখা এবং সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার দুই চেষ্টার মধ্যে দূরত্ব বেশ কম। শেষ পর্যন্ত ২৬ অক্টোবর ভোটারদের রায়েই নির্ধারিত হবে, কান্দাভেল আরেক মেয়াদ দায়িত্ব পাবেন, নাকি এবার সুযোগ আসবে রুপাসিংহের।
এনএন/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬







