ইইউর ডেনিম বাজারে শীর্ষস্থান ধরে রাখল বাংলাদেশ: তবে বাড়ছে ভিয়েতনাম-চীনের চাপ

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর – ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি–আগস্ট) সার্বিক রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনাম, চীন, মিসর ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো ইউরোপীয় বাজারে তাদের হিস্যা দ্রুত বাড়িয়ে চলেছে।
ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান: কী বলছে তথ্য?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী:
মোট আমদানি: চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউ মোট ২৯৫ কোটি ইউরোর ডেনিম পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪.৪০ শতাংশ কম।
বাংলাদেশের অবস্থান: এই বাজারে বাংলাদেশ ৮৭ কোটি ইউরোর ডেনিম রপ্তানি করেছে। যদিও তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৮৫ শতাংশ কম, তবুও ২৯.৪০ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে বাংলাদেশ এখনো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
অন্যান্য দেশ: ১৭.৭৮ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। এরপর তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে তুরস্ক ও তিউনিসিয়া।
প্রতিযোগীদের উল্লম্ফন ও আগস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
বাংলাদেশের রপ্তানি আয় সামান্য কমলেও প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানি লাফিয়ে বাড়ছে। বছরের প্রথম আট মাসে:
- ভিয়েতনাম: ৪৫% প্রবৃদ্ধি
- মিসর: ৩১.৪৬% প্রবৃদ্ধি
- ভারত: ১৮.৬২% প্রবৃদ্ধি
- চীন: ১৭.৭০% প্রবৃদ্ধি
তবে বছরের শুরুর দিকে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও আগস্ট মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। এই একক মাসে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি ১২.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ কোটি ৪1 লাখ ইউরোতে পৌঁছেছে।
চ্যালেঞ্জ ও করণীয়: বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছেন:
উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি: দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় দাম দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৈচিত্র্যের ঘাটতি: প্রথাগত ডিজাইনের বাইরে উচ্চমূল্য সংযোজিত (High Value Added) পণ্যের বৈচিত্র্যে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে।
মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (FTA) এর প্রয়োজনীয়তা: ভিয়েতনাম ইতিমধ্যেই ইইউর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করেছে এবং ভারতও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এলডিসি (LDC) উত্তরণের পর জিএসপি (GSP) সুবিধা বাতিল হলে বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে বাংলাদেশকে দ্রুত এফটিএ স্বাক্ষরের দিকে এগোতে হবে।
এনএন/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬







