এশিয়া

তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৮ জন নিহত, ধসে পড়েছে ৩৩৯টি বাড়ি

তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প

বেইজিং,২৩ অক্টোবর- চীনের দুর্গম তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ভূমিকম্পে ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে। ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে আশ্রয় নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ কেউ রাস্তায় রাখা নিজেদের গাড়িতে অবস্থান করছেন। ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যাহত হয়েছে। এদিকে, ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭। শুক্রবার সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ১৮ জন নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৬৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। এ ছাড়া, ভূমিকম্পে ৩৩৯টি বাড়ি ধসে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তিব্বতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, পার্বত্য এলাকায় ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে। এর উৎপত্তিস্থল নাগচু শহরের প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।

সিসিটিভিতে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় একটি রেস্তোরাঁ থেকে কর্মীরা দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, সুপারমার্কেটের তাক থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিচে পড়ে যাচ্ছে।

সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপের উপপ্রধান লাওয়াং দাগপো জানিয়েছেন, টাউনশিপ কার্যালয়ে ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। এতে কার্যালয়ের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

সিনহুয়ার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া, আঞ্চলিক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বাহিনীর ৩৪৭ জন কর্মীকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কয়েকটি ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। এ সময় একজনকে আহত অবস্থায় নিয়ে যেতে দেখা যায়। অন্য ভবনগুলোতে টর্চের আলো জ্বালিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

অন্যদিকে, সেনাসদস্যদেরও মোতায়েনের প্রস্তুতি নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে টাইফুন

এদিকে, তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ‘চ্যাম্পি’। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে একজন নিহত ও ৯৪ জন আহত হয়েছেন।

শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯১ কিলোমিটার। ঝড়ের কারণে পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল ঝড়টি। সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কায় ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। বাতিল করা হয়েছে ৯৩১টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।

সুপার টাইফুনে পরিণত হওয়া ‘চ্যাম্পি’ এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, ঝড়টির বাতাসের বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। এ কারণে দ্বীপটির অধিকাংশ এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, চ্যাম্পি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে উত্তর দিকে চীনের মূল ভূখণ্ডের দিকে যাবে। এরপর দক্ষিণ জাপানের দিকে এগিয়ে যাবে। তবে ঝড়টির গতিপথ পরিবর্তন হলে তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কাও রয়েছে।

ঝড়ের সতর্কতায় শুক্রবার তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ ২৬২টি ফ্লাইটের সবগুলো এবং আন্তর্জাতিক ৬৬৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দেশটির আর্থিক বাজারও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচলকারী উচ্চগতির রেলসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।

উপকূলীয় শহরগুলোতে কর্তৃপক্ষ মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। এতে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে দমকা বাতাসের আশঙ্কার কথা জানিয়ে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, টাইফুন চ্যাম্পির প্রভাবে শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত তাইওয়ানের সব ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। উপকূলীয় শহরগুলোতে মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতির দমকা বাতাসের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। রাজধানী তাইপের আশপাশসহ উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এস এম/ ২৩ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language