রিয়াদ-দাম্মাম রুটে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ, সৌদি যেতে বিকল্প জেদ্দা-মদিনা

রিয়াদ,১৬ অক্টোবর-রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা হয়ে সৌদি আরব যাচ্ছেন যাত্রীরা। এদিকে, রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা আরও এক দিন বাড়িয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ দুই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের প্রাণঘাতী হামলার পর গত শনিবার থেকে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এরপর মঙ্গলবার থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইটও বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি সরকার।
মদিনা-জেদ্দার পথই এখন ভরসা:
পবিত্র মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য সব বিমানবন্দর সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। এ পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে মদিনা ও জেদ্দা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এর আগে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশটিতে যেতে এবং বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন। যাত্রীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা ১৪৮টি বেড়েছে। পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য জানতে যাত্রীদের বিমানের টিকিট বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সৌদি আরব রুটে ১০৩ ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন, ভোগান্তিতে প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী:
বৃহস্পতিবার দুপুরে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা থেকে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট এবং সৌদি আরব হয়ে যাতায়াত করা ট্রানজিট ফ্লাইট মিলিয়ে মোট ১০৩টি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে এবং কয়েকটি বাতিল করা হয়েছে। এতে ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গতকাল রাত আটটায় প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য জানায়নি বেবিচক।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ৮টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৪২টি। অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৮টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৩টি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এসব ট্রানজিট ফ্লাইটের মোট সংখ্যা ৬১টি।
এস এম/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬







