পুতিনের আকাশসীমায় বড় আঘাত: ইউক্রেনের নিখুঁত মিসাইল হামলায় ধুলিস্যাৎ রাশিয়ার ৬টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান

কিয়েভ, ১৫ অক্টোবর – রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পারদ আবারও তুঙ্গে! রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীর বিমানঘাঁটিতে এক দুঃসাহসিক ও ধ্বংসাত্মক হামলা চালানোর দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলের বোরিসোভলেস্ক বিমানঘাঁটিতে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে রাশিয়ার গর্বের ছয়টি এসইউ-৩৪ (Su-34) যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের মিলিটারি জেনারেল স্টাফ টেলিগ্রামে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি, মহাকাশ থেকে তোলা স্যাটেলাইট ইমেজেও বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন ধরা পড়েছে।
কীভাবে চালানো হলো এই হামলা? নেপচুন মিসাইলের ক্যারিশমা
ইউক্রেনীয় সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই অত্যাধুনিক ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে তারা নিজেদের দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দীর্ঘ পাল্লার ‘নেপচুন কোস্টাল মিসাইল’ (Neptune Coastal Missile) ব্যবহার করেছে। রুশ রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত নিশানায় এই মিসাইলগুলো সরাসরি বোরিসোভলেস্ক ঘাঁটির হ্যাঙ্গার ও পার্কিং এরিয়ায় আঘাত হানে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই এসইউ-৩৪ যুদ্ধবিমানগুলো?
রুশ বাহিনীর বিমান বহরে এসইউ-৩৪এম (Su-34M) হলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিশালাকৃতির দ্বৈত আসনের বোমারু যুদ্ধবিমান। একেকটি বিমানের দাম কয়েকশ কোটি টাকা।
গ্লিড বোমার ত্রাস: ইউক্রেনীয় ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনী নিয়মিত এই যুদ্ধবিমানগুলো ব্যবহার করে বিধ্বংসী ‘গ্লিড বোমা’ (Glide Bombs) বর্ষণ করে থাকে। এই বোমাগুলোর আঘাতে ইউক্রেনের ডিফেন্স লাইন ও ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারগুলো নিমেষেই গুঁড়িয়ে যায়।
মস্কোর বড় ধাক্কা: ইউক্রেনের আকাশপথে ধ্বংসাত্মক হামলা চালাতে এই বিমানগুলো মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করত। ফলে একসঙ্গে ছয়টি এসইউ-৩৪ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রুশ বিমানবাহিনীর আকাশ শক্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার কৌশল?
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এখনও এই হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা না হলেও, ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই দীর্ঘ পাল্লার নিখুঁত আঘাত প্রমাণ করে যে—রাশিয়ার ঘরের ভেতর ঢুকেও বড় ধরনের আঘাত হানার সক্ষমতা কিয়েভ এখন অর্জন করেছে। চলমান এই সংঘাতে এই হামলা নতুন কোনো মোড় নেয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
এনএন/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬







