পূজোয় মেঘের রাজ্যে ঘোরাঘুরির সুযোগ! সব নিষেধাজ্ঞা তুলে খুলে দেওয়া হলো সাজেক ভ্যালি

রাঙামাটি, ১৫ অক্টোবর – শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি ও উৎসবের মুখর পরিবেশকে ঘিরে পাহাড়প্রেমীদের জন্য এলো বড় সুখবর! পর্যটকদের জন্য আবার খুলে দেওয়া হচ্ছে মেঘের উপত্যকা—রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দৃষ্টিনন্দন সাজেক ভ্যালি। সাজেক ভ্রমণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে পাহাড়ের আঞ্চলিক সড়কে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করায় পর্যটকদের যাতায়াতের পথ পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত হলো।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে সাজেকসহ আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও অবরোধ স্থগিতের পটভূমি
এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল জেলা প্রশাসন।
তবে শারদীয় দুর্গাপূজার মহোৎসব ও টানা ছুটির সুযোগে পর্যটন খাতের পুনরুজ্জীবন এবং পর্যটকদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় এনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সড়ক অবরোধ স্থগিত করা হয়। ফলে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের বাধা বা অবরোধ থাকছে না।
পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস
সাজেক ভ্রমণের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর থেকেই রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে স্বস্তির বাতাস বইছে। আকস্মিক নিষেধাজ্ঞায় সাজেকের শত শত রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও স্থানীয় জিপ (চান্দের গাড়ি) মালিকদের বুকিং বাতিলের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি কেটে গেছে।
পূজোর ছুটিতে সাজেক যাওয়ার ট্রিপ প্ল্যান করে রাখা হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছে এক দারুণ স্বস্তি।
সাজেকগামী পর্যটকদের জন্য জরুরি কিছু পরামর্শ
নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও পাহাড়ের ভৌগোলিক ও সার্বিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভ্রমণকারীদের বিশেষ কিছু নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন:
প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুসরণ: পার্বত্য এলাকায় চলাচলের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ অক্ষুরে অক্ষরে অনুসরণ করা।
সড়ক পরিস্থিতির খবর রাখা: ভ্রমণের জন্য রওনা হওয়ার আগেই খাগড়াছড়ি-সাজেক প্রধান সড়ক ও আশপাশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জেনে নেওয়া।
সেনা কনভয়ের সাথে যাত্রা: নিরাপত্তার সুবিধার্থে খাগড়াছড়ির বাঘাইহাট আর্মি ক্যাম্প থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাওয়া বিশেষ এসকোর্ট বা সামরিক কনভয়ের সঙ্গেই যাতায়াত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
পাহাড়ের স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ
বিগত কিছুদিন ধরে পাহাড়ের বিভিন্ন আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন ব্যবসা। দুর্গাপূজার মতো জাতীয় উৎসবের সময় সাজেক উন্মুক্ত করে দেওয়া কেবল পর্যটকদের মনই ভরাবে না, বরং পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে।
এনএন/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬







