শিক্ষা

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন স্থগিত! প্রবিধানমালা ঘিরে শিক্ষা বোর্ডে জরুরি নির্দেশনা

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর – দেশের সব বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের গভর্নিং বডি এবং ম্যানেজিং কমিটি গঠনের চলমান কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের নতুন প্রবিধানমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এই স্থগিতাদেশ জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রবিধানমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

সভাপতির পদের যোগ্যতা ও প্রবিধানমালার পরিবর্তন

বেসরকারি কলেজের পরিচালনা পর্ষদকে ‘গভর্নিং বডি’ এবং মাধ্যমিক স্কুলের পরিচালনা পর্ষদকে ‘ম্যানেজিং কমিটি’ বলা হয়ে থাকে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট এই পরিচালনা পর্ষদ প্রবিধানমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

২০২৫ সালের প্রবিধানমালার মূল দিকসমূহ:

শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যবাধকতা: কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে ন্যূনতম ৪ বছর মেয়াদি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে স্নাতক (ডিগ্রি) বা সমমানের যোগ্যতা অর্জন বাধ্যতামূলক করা হয়।

রাজনীতিকদের বাদ দেওয়া: এমপি বা রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিদের বদলে বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি ৯ম ও ৫ম গ্রেডের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের অধ্যাপক/সহযোগী অধ্যাপক কিংবা কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে সভাপতি মনোনীত করার নিয়ম যুক্ত করা হয়।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রবিধানমালা পুনর্মূল্যায়ন

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই এই নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

জনপ্রতিনিধিদের আপত্তি: নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের একাংশ সভাপতি পদের যোগ্যতা ও প্রক্রিয়ার নিয়ম নিয়ে আপত্তি তোলেন এবং আগের মতো জনপ্রতিনিধিদের সভাপতি পদে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

শিক্ষামন্ত্রীর সিদ্ধান্ত: গত মার্চে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সভাপতি পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার সর্বনিম্ন সীমা ‘স্নাতক (গ্র্যাজুয়েশন)’ রেখে পরিচালনা পর্ষদগুলো পুনর্গঠন বা রিস্টাবলিশ করা হচ্ছে। তবে রাজনীতি বা জনপ্রতিনিধিদের ফেরানো হবে কি না, তা নিয়ে তখন স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

‘শিক্ষা ব্যবস্থা পেছনে হাঁটবে’: শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক নেতাদের উদ্বেগ

পরিচালনা পর্ষদে পুনরায় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপর সুযোগ করে দেওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও শিক্ষক সংগঠনের নেতারা।

বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান মন্তব্য করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফের রাজনৈতিক ও অপরাজনৈতিক প্রভাব ফিরিয়ে আনা হলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা ‘পেছনে হাঁটবে’। তাদের দাবি, শিক্ষার মান বজায় রাখতে শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের হাতেই পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্ব রাখা উচিত।

সিদ্ধান্তহীনতায় হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

কমিটি গঠনের কাজ স্থগিত হওয়ায় দেশের হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন আপাতত থমকে গেল। প্রবিধানমালার চূড়ান্ত রূপ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তের সাথে জনপ্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার বিষয়টি কীভাবে মেটানো হয়—এখন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সবাই সেদিকেই তাকিয়ে আছেন।

এনএন/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language