ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, দাবি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ১৫ অক্টোবর- হরমুজ প্রণালীসহ আশপাশের কৌশলগত সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও উত্তেজনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা প্রায় পুরোপুরি ধসে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটলেও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
বুলহেড সিটিতে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এ ছাড়া ধারাবাহিক মার্কিন সামরিক অভিযানের মুখে ইরান তার মূল সামরিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ইরান ইতোমধ্যে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হারিয়ে কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিখুঁত ও ধারাবাহিক হামলার মুখে ইরান আর কার্যকর সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর মার্কিন হামলার প্রভাব তুলে ধরতে গিয়ে বেশ অনানুষ্ঠানিক ও কঠোর ভাষায় কথা বলেন ট্রাম্প। ইরানের নেতৃত্বে ধারাবাহিক পতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির প্রথম সারির নেতারা সবাই শেষ হয়ে গেছেন। এরপর তারা দ্বিতীয় সারির নেতৃত্ব সামনে নিয়ে এসেছিল, তারাও আর নেই। পরে তৃতীয় সারির নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হলে তাদের অর্ধেকও ইতোমধ্যে নির্মূল হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যারা রয়েছেন, তারা তাঁর কাছে অনুরোধ করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন, যেন তাদের ওপর আর হামলা চালানো না হয়। ট্রাম্প বলেন, তিনি তাদের সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নতুন করে হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথে হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলসহ অন্যান্য জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা নিয়ে দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জনসভায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন ট্রাম্প। তবে তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যতটা খারাপ হতে পারত, বাস্তবে ততটা খারাপ হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, তিনি জানতেন যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়বে। তবে সত্যি বলতে, তিনি ভেবেছিলেন জ্বালানি তেলের দাম আরও অনেক বেশি বেড়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দামও খুব দ্রুত আগের পর্যায়ে নেমে আসবে।
তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করলেও জাহাজে হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা সংঘাতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করছে। যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে অবশ্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।
এস এম/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬







