মুচলেখার শর্ত উড়িয়ে মুক্তির পরই ফের রাজপথে নামার হুংকার ‘ককরোচ’ নেতার

নয়াদিল্লি, ১১ অক্টোবর – ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। পুলিশি দমনপীড়ন, ধরপাকড় আর হাজার হাজার আটকের পরও পিছু হটতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়েই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারের কোনো শর্ত বা মুচলেকায় তারা মাথা নত করেননি।
কী ঘটেছিল নেপথ্য নাটকে?
শনিবার মুম্বাই থেকে বিমানযোগে দিল্লি পৌঁছানোর পর রানওয়ে বা বিমানের ভেতর থেকেই সিজেপির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিতেই তাঁরা রাজধানীতে এসেছিলেন।
রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাঁদের হাজির করা হয়। সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে, ‘আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ করবেন না’—এমন মুচলেখা এবং ৫০ হাজার টাকার বন্ডের বিনিময়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তবে জেল থেকে বের হয়েই সব গুঞ্জন উড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিজিৎ দীপকে। “আমরা প্রতিবাদ জানাতে পারব না, এমন কোনো মুচলেকায় সই করিনি। আমরা আবারও রাজপথে নামব।”
‘জরুরি অবস্থা’ চলছে দিল্লিতে: সিজেপি নেতাদের হুংকার
বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশি তাণ্ডব ও যন্তর মন্তরসহ পুরো রাজধানীকে দুর্গ বানিয়ে ফেলার তীব্র সমালোচনা করেছেন সিজেপির অন্য নেতারাও। সংবাদ সম্মেলনে দলটির সহআহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমান দিল্লিকে অঘোষিত ‘জরুরি অবস্থার’ সাথে তুলনা করেছেন।
“শান্তিভঙ্গ তো করেছে সরকার”: মুচলেখার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললে সৌরভ দাস কড়া ভাষায় বলেন, “তারা আমাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখেছিল। বলেছে শান্তিভঙ্গ করা যাবে না! অথচ দেশের শান্তিভঙ্গ তো করেছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার।”
সারা দেশে আন্দোলনের হুংকার: শুধু দিল্লি নয়, এই আন্দোলন এখন ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপি নেতারা।
এদিকে আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে সিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে পুরোনো একটি মানহানি মামলা সচল করে নতুন নোটিশ পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সব মিলিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এনএন/ ১১ অক্টোবর ২০২৬







