ধ্রুব রাঠীকে আটকের পর ছেড়ে দিল পুলিশ, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

নয়াদিল্লি, ১১ অক্টোবর – ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে দেশটির জনপ্রিয় ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীকে আটক করেছিল দিল্লি ও গুরুগ্রাম পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তবে তীব্র সমালোচনার মুখে শনিবার রাতেই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে পুলিশি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যাপক আটকের চিত্র:
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
হাজার হাজার আটক: শনিবার দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে আনুমানিক তিন হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী ও নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি: ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির পর রাজধানীতে এটি অন্যতম বৃহত্তম নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ঘটনা। শুধু শনিবার দিল্লিতে ৪০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ২৬ হাজার অতিরিক্ত সদস্য আনা হয়।
জন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অজুহাতে জন্তর মন্তরে প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে।
কেন এই আন্দোলন এবং সরকারের কঠোর অবস্থান?
১. নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনাস্থা: ভোটার তালিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ত্রুটির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে সিজেপি এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।
২. নেতৃত্বের পরিবর্তন ও প্রতিবাদের হুংকার: সিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাশ ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটকের পর বর্তমানে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অজিঙ্কা শিন্ডে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুলিশি দমনপীড়ন চালিয়ে এই আন্দোলন থামানো যাবে না।
৩. সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব: ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানোর পরই তাঁর আটকের ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
চলমান পরিস্থিতির পরবর্তী করণীয়:
সতর্কতা অবলম্বন করুন: দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মেট্রো স্টেশনগুলোতে কড়াকড়ি এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকায় সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা: সিজেপি এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীর অন্যান্য অঞ্চলেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
এনএন/ ১১ অক্টোবর ২০২৬







