কুমিল্লায় ৭ম শ্রেণির ছাত্রী তাজমিন হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘাতক সুমনের স্বীকারোক্তি

কুমিল্লা, ১০ অক্টোবর – কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৪) ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অটোরিকশাচালক সুমন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার ৬ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক মমিনুল হকের সামনে তিনি এই জবানবন্দি দেন।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার এবং কুমিল্লার আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে নৃশংসতার লোমহর্ষক বিবরণ
শনিবার সকালে জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন:
ঘটনার সূত্রপাত: গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে তাকে হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায় এবং রাত প্রায় ৩টার দিকে সে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে উদ্ধারের অনুরোধ জানায়। তবে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তা দেখতে পাননি।
ভাড়া ও কৌশলে অপহরণ: ৩০০ টাকা ভাড়ার কথা বলে পদুয়ার বাজার থেকে রেসকোর্স এলাকায় নেওয়ার নাম করে তাজমিনকে হোটেল নূরজাহানের পাশ দিয়ে চাঁদপুর সড়কে নিয়ে যান অটোরিকশাচালক সুমন। পথিমধ্যে তাজমিন তাকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও পাউরুটি কিনে দিতে বললে সুমন তা কিনে দেন।
ধস্তাধস্তি ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড: এরপর অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে লাকসামের বিজরা ও লালমাই-বাগমারার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নিয়ে যান সুমন। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানক্ষেতে কাত হয়ে পড়ে গেলে তাজমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ধানক্ষেতের আইলের পাশে তাকে ধরে ফেলেন সুমন।
মৃত্যু নিশ্চিতকরণ: দুর্বল হয়ে পড়া তাজমিনকে ধর্ষণের পর গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন সুমন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার মাথার ওপর পা দিয়ে চেপে ধরে রাখা হয়। পরে অটোরিকশাটি ফেলেই পালিয়ে যাওয়ার সময় তাজমিনের আইফোনটি নিয়ে যান তিনি।
আইফোন লুকানো ও গ্রেপ্তারের চাঞ্চল্যকর তথ্য
হত্যাকাণ্ডের পর বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুর পাড়ে তাজমিনের আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যান সুমন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর অলংকার মোড় এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করায় তারা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
এনএন/ ১০ অক্টোবর ২০২৬







