দক্ষিণ এশিয়া

নগ্ন ভিডিও দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে আহমেদাবাদের যুবকের কাছ থেকে ৫০ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আহমেদাবাদে ভিডিও কলের মাধ্যমে ৪৯.৭৮ লাখ রুপির সাইবার প্রতারণার প্রতীকী ছবি
অচেনা ভিডিও কলের পর পুলিশ ও ইউটিউব কর্মকর্তা পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ। প্রতীকী ছবি।

দিল্লি, ০৬ অক্টোবর- একটি অচেনা ভিডিও কল থেকেই ঘটনার শুরু। পর্দায় হঠাৎ নগ্ন এক নারীকে দেখে কল ফাঁদ। পুলিশ কর্মকর্তা ও ইউটিউবের কর্মকর্তা পরিচয়ে গ্রেপ্তার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ র কেটে দিয়েছিলেন আহমেদাবাদের ২৫ বছর বয়সী এক যুবক।

কিন্তু এরপরই শুরু হয় ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের দীর্ঘ ফাঁদ। পুলিশ কর্মকর্তা ও ইউটিউবের কর্মকর্তা পরিচয়ে গ্রেপ্তার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সাইবার প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই যুবক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতারকদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে কয়েক দফায় তিনি মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি পাঠিয়েছেন।

পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ওই যুবকের হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল আসে।

কল ধরার পর তিনি পর্দায় এক নগ্ন নারীকে দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে না পেরে দ্রুত কল কেটে নম্বরটি ব্লক করে দেন।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নম্বর থেকে আবার ফোন আসে। এবার ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি দাবি করেন, ওই যুবকের মুখ ব্যবহার করে একটি নগ্ন ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। টাকা না দিলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

ভয় পেয়ে যুবক কল কেটে দিলেও প্রতারকদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এ সময় তাকে একটি ভিডিওও পাঠানো হয়, যা পরে তিনি মুছে ফেলেন।

এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর আবারও অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। এবার ফোনদাতা নিজেকে দিল্লি সাইবার ক্রাইম শাখার কর্মকর্তা ‘সঞ্জয় অরোরা’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, যুবকের নামে থাকা ওই নগ্ন ভিডিওকে কেন্দ্র করে মামলা হতে পারে। এমনকি এ ধরনের অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলেও তাকে ভয় দেখানো হয়।

শুধু তাই নয়, আহমেদাবাদ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে কথিত এক ইউটিউব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘আইনি প্রক্রিয়া’ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এরপর আরেক ব্যক্তি নিজেকে ইউটিউবের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, যুবকের নামে দুটি নগ্ন ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিও দুটি সরিয়ে ফেলতে প্রথমে ৭১ হাজার ২৫০ রুপি দাবি করা হয়।

গ্রেপ্তার ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে যুবক টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু এরপরই প্রতারণার নতুন ধাপ শুরু হয়। ভিডিও মুছে ফেলা, মামলা বন্ধ করা কিংবা গ্রেপ্তার ঠেকানোর কথা বলে বিভিন্ন অজুহাতে বারবার টাকা দাবি করতে থাকে প্রতারকরা।

এমনকি তার ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়া এবং ভিডিও ভাইরাল করার হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশের নাম ব্যবহার করে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানোয় একের পর এক অর্থ পরিশোধ করতে থাকেন ওই যুবক।

পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে প্রতারকদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি পাঠান তিনি। কিন্তু এত টাকা পাওয়ার পরও তাদের অর্থের দাবি থামেনি। একপর্যায়ে যুবকের সন্দেহ হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন, তিনি সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

পরে তিনি আহমেদাবাদ সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ করেন। এখন প্রতারকদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবগুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই চক্রে কতজন জড়িত এবং টাকা কোথায় কোথায় স্থানান্তর হয়েছে, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

এস এম/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬




FAQ

আহমেদাবাদের যুবকের সঙ্গে কী ধরনের সাইবার প্রতারণা হয়েছে?

অভিযোগ অনুযায়ী, অচেনা ভিডিও কলের পর কথিত নগ্ন ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পরে প্রতারকেরা পুলিশ ও ইউটিউব কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে চাপ বাড়ায়।

ওই যুবকের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে?

পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন দফায় মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি পাঠিয়েছেন তিনি।

প্রতারকেরা প্রথমে কত টাকা চেয়েছিল?

কথিত ইউটিউব কর্মকর্তা প্রথমে ভিডিও সরানোর জন্য ৭১,২৫০ রুপি দাবি করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

‘সঞ্জয় অরোরা’ কী পরিচয় দিয়েছিলেন?

অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনকারী নিজেকে দিল্লি সাইবার ক্রাইম শাখার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়েছিলেন।

এমন সাইবার প্রতারণার শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করবেন?

National Cyber Crime Reporting Portal-এ অভিযোগ জানানো যায়। আর্থিক সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রে ১৯৩০ জাতীয় হেল্পলাইনেও রিপোর্ট করা যায়।

Back to top button
🌐 Read in Your Language