উত্তর আমেরিকা

রাখাইনের বাজারে ভয়াবহ বিমান হামলার নিন্দা জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান

জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান

ওয়াশিংটন, ৩০ সেপ্টেম্বর- মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের একটি জনাকীর্ণ বাজারে দেশটির সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।

গত সোমবার কিয়াউকতাও শহরের ওই বাজারে চালানো বর্বর হামলায় অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়ে টুর্ক এই নৃশংসতার কঠোর প্রতিবাদ জানান।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর রাখাইন রাজ্যে চালানো সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। সোমবার দুপুরের দিকে হামলাটি চালানোর সময় বাজারে ব্যস্ত সময় চলছিল। সেখানে ২০০টিরও বেশি দোকান খোলা ছিল। কেনাকাটার জন্য রাখাইন, রোহিঙ্গা, হিন্দু ও দেইংনেটসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতা, পরিবহনশ্রমিক ও অন্যান্য বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

এই নৃশংস হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফলকার টুর্ক বলেন, সর্বশেষ এই হামলা যুদ্ধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, যুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোকে অবশ্যই হামলার ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, আনুপাতিকতা এবং সতর্কতা অবলম্বনের নীতি মেনে চলতে হবে। মিয়ানমারের চলমান সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধান বলেন, এসব হামলা দেশজুড়ে বেসামরিক মানুষের ভয়াবহ দুর্দশার চিত্র তুলে ধরছে। তবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানুষের পরিস্থিতি অন্য যেকোনো এলাকার চেয়ে বেশি ভয়াবহ।

উদ্বেগের বিষয় হলো, বেশ কয়েক বছর ধরেই মিয়ানমার চরম সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বেসামরিক মানুষ ক্রমাগত যথেচ্ছ গ্রেফতার, নির্যাতন, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, গুম, জোরপূর্বক শ্রম আদায় এবং সেনাবাহিনীতে জোরপূর্বক নিয়োগের মতো গুরুতর অপরাধের শিকার হচ্ছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ঘনবসতিপূর্ণ বাজার, স্কুল ও আবাসিক ভবনকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানোর বহু অভিযোগ রয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাত এবং উভয় পক্ষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে রোহিঙ্গারা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

এস এম/ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language