সাত সপ্তাহের সর্বনিম্ন সীমানায় বিশ্ববাজার: সুদের হারের শঙ্কায় কমছে স্বর্ণের উজ্জ্বলতা

ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর – বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থান ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ কর্তৃক সুদের হার চড়া রাখার আশঙ্কায় চরম চাপে পড়েছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম সামান্য বাড়লেও তা বিগত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন সীমায় অবস্থান করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মান সময় (জিএমটি) ৪টা ৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪,১৩০.৫৮ ডলারে। এর আগে গত সোমবার তা ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিউচার মার্কেটে ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১৬২.২০ ডলারে স্থির হয়।
কেন স্বর্ণের বাজারজুড়ে মন্দাভাব?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং চড়া মূল্যস্ফীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পথ থেকে সরে আসছে। স্বর্ণের দরপতনের মূল অনুঘটকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ফেডের সুদের নীতি ও ফেডওয়াচ সূচক: শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের (CME) ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন অক্টোবরের মুদ্রানীতি বৈঠকে ফেড সুদের হার আরও বৃদ্ধি বা উচ্চমাত্রায় ধরে রাখতে পারে—এমন সম্ভাবনা এখন ৭২.৫ শতাংশে পৌঁছেছে (যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৭.৬%)।
সুদের হার ও তেলের প্রভাব: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার খবর মিললেও তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা কাটেনি। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তেলের দাম বাড়লে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ে, যার প্রভাব সামলাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায়। সুদের হার বাড়লে ব্যাংকিং আমানত ও বন্ডের আকর্ষণ বাড়ে, অন্যদিকে অ-সুদভিত্তিক ধাতু হওয়ায় স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়।
এআই খাতের চাহিদা ও মূল্যস্ফীতি: ফেড গভর্নর লিসা কুক সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের অতিরিক্ত চাহিদা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম আগামী কয়েক মাস মূল্যস্ফীতিকে উচ্চমাত্রায় ধরে রাখতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর হালচাল
স্বর্ণের পাশাপাশি পতন দেখা গেছে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর বাজারেও:
- রুপা (Silver): ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০.৪২ ডলারে নেমেছে।
- প্লাটিনাম (Platinum): ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৬৯৭.৭১ ডলারে ঠেকেছে।
- প্যালাডিয়াম (Palladium): ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ১,২০৫.২৭ ডলারে।
বিনিয়োগকারীরা এখন চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা আস্থা, চাকরির শূন্যপদ, বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান ও নন-ফার্ম পে-রোল তথ্যের দিকে কড়া নজর রাখছেন। অর্থনৈতিক তথ্য শক্তিশালী এলে ফেড আরও কড়া সুদের নীতি বজায় রাখবে, যা স্বর্ণের দামকে আরও নিচে নামিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এনএন/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬







