জাতীয়

২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গঠনে পর্যটনই ট্রাম্পকার্ড: বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাচুর্যময় ইতিহাস ও সুপ্রাচীন সংস্কৃতিকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন খাতকে সম্পূর্ণ আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে উন্নীত করাকে সরকার তার মূল অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে। একইসঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বিগ ডেটা ও স্মার্ট কানেক্টিভিটি ব্যবহারের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত করার মেগা ভিশন ঘোষণা করা হয়েছে।

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬’ (২৭ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে এসব যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রধান লক্ষ্যগুলো:

ডিজিটাল ও এআই প্রযুক্তির স্মার্ট পর্যটন

চলতি বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আগামীর পর্যটন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন:

স্মার্ট সার্ভিস: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিগ ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সেবা হবে আরও নিরাপদ, সহজ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

নতুন কর্মসংস্থান: প্রযুক্তিগত এই রূপান্তর তরুণ সমাজ, নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের (Startups) জন্য নতুন উপার্জনের পথ খুলে দেবে।

সহজ ঋণ সুবিধা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি ট্যুরিজম ব্যবসার প্রসারে সহজ শর্তে অর্থায়ন ও নীতিগত সহায়তা জোরদার করা হয়েছে।

৩০ জেলায় ট্যুরিজম ক্লাস্টার ও ২০৩৪ এভিয়েশন লক্ষ্য

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনার মূল স্তম্ভগুলো তুলে ধরে বাণীতে বলা হয়:

১. ৩০টির বেশি জেলায় ট্যুরিজম ক্লাস্টার: দেশের বৈচিত্র্যময় ইতিহাসকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করতে ৩০টিরও বেশি জেলাকে বিশেষ পর্যটন জোনে রূপান্তর করা হচ্ছে। এতে রিভার ট্যুরিজম, কুলিনারি, ইকো ও গ্রামীণ পর্যটন প্রাধান্য পাবে।

২. এভিয়েশন হাব ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি: ২০৩৪ সালের মধ্যে বিস্তৃত জাতীয় বিমান নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

৩. ভূমি-সাশ্রয়ী পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন: প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় উপকূলীয় অঞ্চলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং টেকসই গ্রিন-ট্যুরিজম বাস্তবায়নে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পর্যটন শুধু ঘুরে বেড়ানো নয়, অর্থনীতির চালিকাশক্তি’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে স্পষ্ট করেন যে, পর্যটন খাত কেবল বিনোদনের ক্ষেত্র নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের প্রধান চালিকাশক্তি।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (PPP) মাধ্যমে নতুন হোটেল, বিনোদন পার্ক ও আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশের সর্বস্তরের পর্যটনপ্রেমী, বিদেশি পর্যটক ও উদ্যোক্তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এনএন/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language