কানাডার অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন, ২৪ সেপ্টেম্বর- কানাডার অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, কানাডা ‘কোটি কোটি’ মানুষকে প্রায় কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই দেশে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। এর ফলে তৈরি হওয়া সমস্যা শিগগিরই ‘সামলানোর বাইরে’ চলে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, কানাডার এই অভিবাসন নীতির কারণে দেশটিতে বেকারত্ব বাড়ছে। তিনি পরিস্থিতিকে ‘লিবারেল টেকওভার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এসব দাবির পক্ষে পোস্টে কোনো প্রমাণ দেননি। অন্যদিকে, কানাডায় অভিবাসন গ্রহণের হার গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মী মিলিয়ে আগমনের সংখ্যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে শিক্ষার্থী ও কর্মী হিসেবে নতুন করে এসেছেন মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬০ জন। ২০২৪ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৬ হাজার ৫৭০ জন।
কানাডা সরকার জানিয়েছে, আবাসন, অবকাঠামো ও সরকারি সেবার ওপর চাপ কমাতে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দেশটির মোট অস্থায়ী জনসংখ্যা ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া রয়েছে। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দর্শনার্থী, অস্থায়ী কর্মী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। নিরাপত্তা, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক অধিকার বা সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মতো কারণে কাউকে দেশে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে।
ট্রাম্পের মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন কানাডা অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি আবাসন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও সরকারি সেবার ওপর চাপ মোকাবিলায় নীতি পরিবর্তন করছে। দেশটির বর্তমান পরিকল্পনায় অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শ্রমবাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী অভিবাসন ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬







