রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিল পাস, ভারতসহ ১০ দেশের শুল্ক ঝুঁকি

ওয়াশিংটন, ১৭ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বহুল আলোচিত ও কঠোর সংস্থানসংবলিত ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ পাস হয়েছে। বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের টেবিলে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই আইনের ফলে ভারতসহ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা কয়েকটি দেশের জন্য নতুন করে বড় ধরনের শুল্ক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মূলত ক্রেমলিনের অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিতে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার তহবিলের সংস্থান বন্ধ করতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
আইনসভা সূত্রে জানা গেছে, সিনেটে আগেই পাস হওয়া এই বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পায়। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এটিই সবচেয়ে বড় ও আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী, যেসব রাষ্ট্র রাশিয়া থেকে বিদ্যুৎ, তেল বা গ্যাস কিনে মস্কোর অর্থনীতিকে সচল রাখছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলে তাদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের একক ক্ষমতা পাবেন।
তবে ক্যাপিটল হিলে বিলটি পাসের পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না। ওয়াশিংটনে এটি পাসের প্রক্রিয়ায় একাধিক বাধা ও তীব্র রাজনৈতিক মতবিরোধ দেখা দেয়। বিশেষ করে হাউস ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশ এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন। ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ ছিল, এই আইন পাস হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত শুল্কারোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হবে, যার অপব্যবহার হতে পারে।
বিতর্ক ও সংশোধনী নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য স্টেনি হোয়ার একটি বিশেষ সংশোধনী প্রস্তাব করেন। এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল, সেকেন্ডারি শুল্ক কাঠামোর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা। এতে চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, কিরগিজস্তান এবং স্লোভাকিয়ার মতো ১০টি দেশকে সরাসরি চিহ্নিত করা হয়, যাদের ওপর সম্ভাব্য ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
এস এম/ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬







