রাশিয়ার হুমকির মধ্যে ফ্রান্সের ‘ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স’ উদ্যোগে যোগ দিল ফিনল্যান্ড

হেলসিঙ্কি,১৬ সেপ্টেম্বর- রাশিয়ার বাড়তে থাকা হুমকি এবং ইউরোপের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফ্রান্সের ‘ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স’ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিনল্যান্ড। এর মাধ্যমে ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থাকে ঘিরে ইউরোপীয় সহযোগিতার কাঠামোর অংশ হলো দেশটি।
সোমবার হেলসিঙ্কিতে ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার বিষয়ে একটি চুক্তি সই করেন। একই দিনে ফিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে ফ্রান্সের ‘ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স’ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও জানানো হয়।
ফিনল্যান্ড হলো ফ্রান্সের এই উদ্যোগে যোগ দেওয়া দশম ইউরোপীয় দেশ। এর আগে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, গ্রিস, ডেনমার্ক ও নরওয়ে এতে যুক্ত হয়েছে।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব বলেছেন, উদ্যোগটিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য ইউরোপের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সহযোগিতা কৌশলগত বার্তা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে এবং পারমাণবিক সীমার নিচে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।
সহযোগিতা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একটি ‘নিউক্লিয়ার স্টিয়ারিং গ্রুপ’ গঠন করা হবে। এই গ্রুপ দুই দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধসংক্রান্ত সহযোগিতার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করবে।
তবে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, ফ্রান্সের এই উদ্যোগ ন্যাটোর পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থার বিকল্প নয় এবং এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কাঠামোও নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ফিনল্যান্ড শান্তিকালে নিজেদের ভূখণ্ডে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করতে চায় না।
ফ্রান্সের এই উদ্যোগ ন্যাটোর পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থা থেকে আলাদা। এই কাঠামোর আওতায় অংশ নেওয়া দেশগুলো ন্যাটোর মতো পারস্পরিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতায় থাকবে না। একই সঙ্গে ফ্রান্স তার পারমাণবিক অস্ত্র এবং সেগুলো ব্যবহারের সিদ্ধান্তের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
উদ্যোগটির আওতায় অংশীদার দেশগুলো যৌথ সামরিক মহড়া ও কৌশলগত সহযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। প্রয়োজন হলে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সামরিক সরঞ্জাম স্বল্প সময়ের জন্য মিত্রদেশের ভূখণ্ডে মোতায়েনের সুযোগও এর মধ্যে রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্ত থাকা দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ফিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তা আলোচনারই একটি অংশ।
এদিকে, ফ্রান্সের সঙ্গে পারমাণবিক প্রতিরোধ নিয়ে এস্তোনিয়াও আলোচনা করছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচাল এএফপিকে বলেছেন, এস্তোনিয়া বর্তমানে ন্যাটোর পারমাণবিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্স দেশটিতে সেনা মোতায়েন করে সহযোগিতা করছে। ফলে পারমাণবিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
ফ্রান্সের পারমাণবিক নীতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেশটির প্রেসিডেন্টের হাতে থাকে। অন্যদিকে, ন্যাটোর পারমাণবিক কাঠামোতে সদস্যদেশগুলোর সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফ্রান্সের ‘ফরওয়ার্ড ডিটারেন্স’ উদ্যোগও ন্যাটোর কাঠামোর বাইরে থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক প্রতিরোধসংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর একটি ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠছে।
এস এম/ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







