ভারতের বিমানবাহী রণতরি আইএনএস বিক্রান্তে প্রথমবার অবতরণ করল রাফাল এম যুদ্ধবিমান

দিল্লি,০৩ নভেম্বর-ভারতের নিজস্ব বিমানবাহী রণতরি আইএনএস বিক্রান্তে প্রথমবারের মতো সফলভাবে অবতরণ করেছে ফ্রান্সের তৈরি রাফাল এম যুদ্ধবিমান।
গত ২৯ অক্টোবরের এই পরীক্ষা ভারতের নৌবাহিনীতে যুদ্ধবিমানটির ব্যবহার শুরুর পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের এপ্রিলে নৌবাহিনীর জন্য ৭৫০ কোটি ডলারে ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে। এর মধ্যে ২২টি এক আসনের রাফাল এম এবং চারটি দুই আসনের প্রশিক্ষণ বিমান রাফাল ডিএইচ।
প্রশিক্ষণ বিমানগুলো বিমানবাহী রণতরি থেকে পরিচালনার উপযোগী নয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৯ সাল থেকে বিমান সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।
পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে অক্টোবরের মাঝামাঝি গোয়ার আইএনএস হানসার কাছে একটি রাফাল উড়তে দেখা যায়। সেখানে ভারতের উপকূলভিত্তিক পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রে বিমানবাহী রণতরিতে ব্যবহারের জন্য যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা যাচাই করা হয়। সেখানে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিক্রান্তে অবতরণের পরীক্ষা চালানো হয়।
নেভাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় ব্যবহার করা বিমানটি ফ্রান্সের নৌবাহিনীর বহরের।
তবে রাফাল এম পরিচালনার জন্য কিছু কারিগরি পরিবর্তন প্রয়োজন। বিমানটির ডানা ভাঁজ করা যায় না। এ ছাড়া ডানার বিস্তার বিক্রান্তের বিমান ওঠানামার লিফটের মাপের চেয়ে বেশি। এই সমস্যা সমাধানে ডানার প্রান্তে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র বহনের রেল খুলে ফেলার ব্যবস্থা এবং রণতরির লিফটে কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের পরিবর্তন আইএনএস বিক্রমাদিত্যতেও করতে হবে।
ভারতের নৌবাহিনীতে বর্তমানে মিগ-২৯কে ও মিগ-২৯কেইউবি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়। এগুলোর বিকল্প হিসেবে রাফাল এম ও যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেটের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছিল। ২০২২ সালে উপকূলভিত্তিক পরীক্ষাকেন্দ্রে দুই যুদ্ধবিমানের পরীক্ষা শেষে রাফাল এম বেছে নেওয়া হয়।
রাফাল কেনার ফলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ৩৬টি রাফালের সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার কাজ সমন্বয় করা সহজ হবে। চুক্তিতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশীয় অস্ত্র সংযোজন এবং ভারতে রাফালের কাঠামো তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমসের মাধ্যমে ২০২৮ অর্থবছর থেকে প্রতি মাসে দুটি বিমানের কাঠামো তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিমান ও ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং সংস্কারের কেন্দ্রও স্থাপন করা হচ্ছে।
ভারতের নিজস্ব দুই ইঞ্জিনের ডেকভিত্তিক যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্পে অগ্রগতি না থাকায় ভবিষ্যতে আরও রাফাল এম কেনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এস এম/ ০৩ নভেম্বর ২০২৬







