জাতীয়

ইসিকে নিয়ন্ত্রণ করা স্বৈরাচারী মানসিকতার পরিচয়— স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সোচ্চার সাদিক কায়েম

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর – স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা ঘিরে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মধ্যকার স্পষ্ট সমন্বয়হীনতা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুক্তভাবে কাজ করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—ইসিকে দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ করার পরিণতি কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেন্দ্রিক বিতর্ক ও সাদিক কায়েমের ক্ষোভ

ডাকসু ভিপি তার সামাজিক মাধ্যমে সরকার ও ইসির বক্তব্য বিশ্লেষণ করে ৪টি বড় অমিল ও আপত্তির কথা তুলে ধরেন:

ইসির একক তারিখ ঘোষণা: গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সানাউল্লাহ জানান, আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ৭ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিমত: ইসির ঘোষণার পরদিন মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বক্তব্য: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ—যা মূলত ইসির ঘোষিত তারিখকে অমান্য করার ইঙ্গিত দেয়।

ইসিকে দখলের চেষ্টা: সাদিক কায়েমের মতে, নিজের সুবিধামতো একটি তারিখ নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার, যা জনগণের কাছে ইসির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের স্পষ্ট প্রমাণ।

“বিএনপি ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়”

স্ট্যাটাসে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে সাদিক কায়েম লেখেন, “নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে দেশে যে সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় না, তার বড় উদাহরণ বিগত স্বৈরাচার সরকার। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, বিএনপিও সেই স্বৈরাচার আমলের মতো দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণ করে একটি ‘কন্ট্রোলড ডেমোক্রেসি’ (নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র) প্রতিষ্ঠা করতে চায়।”*

রাজনৈতিক অঙ্গন ও নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ও সরকারের অবস্থান ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, “একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হওয়া উচিত। সরকার ও ইসির এই বৈপরীত্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।” — রাজনৈতিক বিশ্লেষক

এনএন/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language