নয়া দিল্লিতে আটকে গেল নতুন হাই কমিশনারের অনুমোদন! ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে তীব্র টানাপড়েন

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর – নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাই কমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবে এখনো সম্মতি (Agrément) দেয়নি ভারত। এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও নয়াদিল্লির সাড়া না পাওয়ায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপড়েন ও রাজনৈতিক শীতলতার খবর উঠে আসার পর নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ জুলাইয়ে বিভিন্ন দেশে নতুন দূত নিয়োগের উদ্যোগ হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামের নাম প্রস্তাব করে ভারতের অনুমোদন চেয়েছিল। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি পদে যোগ দেবেন। ফলে নতুন হাই কমিশনার নিয়োগ আটকে থাকায় কূটনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে বাড়তি অস্বস্তি।
ভিয়েনা কনভেনশন ও কূটনৈতিক জটিলতা
কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র অন্য দেশে মিশনপ্রধান পাঠানোর আগে স্বাগতিক রাষ্ট্রের সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। স্বাগতিক রাষ্ট্র প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে গ্রহণ না করলে তার কারণ প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। সাধারণত কোনো প্রকাশ্য কূটনৈতিক জটিলতা এড়াতে এই প্রক্রিয়াটি গোপনে রাখা হয়, তবে ভারতের নীরবতা ও বিলম্ব সম্পর্কের টানাপড়েনকেই স্পষ্ট করছে।
কেন থমকে গেল দুই দেশের সম্পর্ক?
শীর্ষ রাজনৈতিক সফর বাতিল: গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়া এবং নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে বিমসটেক চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ না নেওয়া সম্পর্কের শীতলতা বাড়িয়েছে।
শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান: ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলেও দিল্লি তাতে সাড়া দেয়নি, যা দুই দেশের সম্পর্কে বড় জটিলতা তৈরি করেছে।
দ্বিপক্ষীয় সফর অনিশ্চিত: ভারতের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর আয়োজনের ক্ষেত্রেও বারবার তৈরি হচ্ছে নতুন কোনো না কোনো বাধা।
টানাপড়েনের মাঝেও কারিগরি যোগাযোগ সচল
রাজনৈতিক পর্যায়ে শীতলতা বজায় থাকলেও দুই দেশের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক সচল রাখার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত ট্রেন চলাচল নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া চলতি বছরের জুনে ভারত সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদায় ঢাকায় হাই কমিশনার করে পাঠায়, যা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গুরুত্ব নির্দেশ করে। তবে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কৌশলগত দূরত্ব এখনো রয়ে গেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে: “কূটনীতিতে নির্দিষ্ট প্রস্তাব আটকে রাখা বা সম্মতি দিতে বিলম্ব করা স্বাগতিক দেশের মনস্তাত্ত্বিক চাপের একটি অংশ। শীর্ষ রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটানো কঠিন।”
এনএন/ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







