জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন কর্নেল মতিউর, হত্যার আগে চট্টগ্রাম যান এরশাদ— চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি!

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর – ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করেছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান। একই সঙ্গে ওই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঠিক দুদিন আগে (২৮ মে) তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর এসব স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা সাংবাদিকদের সামনে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়গুলো নিশ্চিত করেন।
জিয়া হত্যা মামলার অনুসন্ধানে প্রধান বিস্ফোরক তথ্যসমূহ
সরাসরি গুলি চালান মতিউর: তদন্ত সংস্থার মুখোমুখি হয়ে মোজাফফর জানান, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে সার্কিট হাউজে আক্রমণের সময় জিয়াউর রহমানের ওপর সরাসরি গুলি বর্ষণ করেছিলেন লে. কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান।
এরশাদের রহস্যজনক চট্টগ্রাম সফর: হত্যাকাণ্ডের ঠিক দুদিন আগে (২৮ মে ১৯৮১) তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন বলে মোজাফফর তাঁর জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখ করেন, যা ষড়যন্ত্রের নতুন দিক উন্মোচন করছে।
৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ: ঘটনার দীর্ঘ সাড়ে চার দশক পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আবার মুখোমুখি করা হবে।
দ্বৈত মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া: জিয়াউর রহমান হত্যা ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায়ও মোজাফফর গ্রেপ্তার আছেন।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, “সুদীর্ঘ সময় পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধানে ১৯৮১ সালের জিয়াউর রহমান ট্র্যাজেডি ও হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল অভিযুক্তদের ভূমিকা ও ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসছে।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও রহস্যজনক এই হত্যাকাণ্ডের চার দশক পর নতুন এই তথ্য প্রকাশে দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এনএন/ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







