জাতীয়

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত তুলছেন না বেশিরভাগ গ্রাহক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর- দীর্ঘদিন আমানত ফেরত না পাওয়া, তারল্য সংকট এবং দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কারণে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে আগে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছিল। তবে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরুর পর পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন দেখা যাচ্ছে। আমানত তোলার চাপ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। প্রতিদিন যে পরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, গ্রাহকরা তার অর্ধেকও তুলছেন না। বরং অনেকে নতুন করে আমানত রাখতে আসছেন। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুনর্গঠিত ব্যাংকটির প্রথম পরীক্ষা ছিল আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সেই পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। টাকা তোলার চাপ কম থাকা এবং নতুন আমানত আসার বিষয়টি তারই প্রতিফলন। তবে এই আস্থা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার। কারণ একীভূত হওয়ার আগে ব্যাংকটির সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা ও তারল্য সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে আমানত ফেরত পেতে গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছিল। ফলে নতুন ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরুর পর গ্রাহকরা একসঙ্গে আমানত তুলে নিতে এলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত। কিন্তু আমরা ভিন্ন একটি পরিস্থিতি দেখছি।’

পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছিল জানিয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে একসঙ্গে ৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম শুরুর পর যাতে ব্যাংকটি সংকটে না পড়ে, সে জন্য অর্থের সংস্থান ও ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখতে অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রাহকদের প্রত্যাশার তুলনায় আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকায় সেই ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ কিছুটা কমেছে।’

একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংক হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করতেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদার। বাকি চারটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের হাতে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। এতে আর্থিক সংকট তৈরি হলে ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া এবং দৈনন্দিন লেনদেন পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত বছরের ডিসেম্বরে শরিয়াহভিত্তিক এসব ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে পরিশোধিত মূলধন ধরা হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা জোগান দেয়। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়া হবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে একীভূত কার্যক্রম শুরুর পর আমানত বীমা তহবিল থেকে গ্রাহকদের ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিমও ঘোষণা করে। এর মধ্যে আমানতের ওপর মুনাফা কর্তন বা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে পরে গ্রাহকদের চাপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। আমানতের ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট প্রযোজ্য হবে না বলে গত ২৫ আগস্ট জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানত তুলতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

ব্যাংক থেকে পুরো আমানত ফেরত দেওয়া হবে—এমন ঘোষণা আসার পর ধারণা করা হয়েছিল, টাকা তোলার জন্য আমানতকারীরা ব্যাপকভাবে ব্যাংকে আসবেন। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত গ্রাহকরা দেড় হাজার কোটি টাকাও তোলেননি।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ জন গ্রাহক মোট ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। এসব অর্থ ৭ সেপ্টেম্বর ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি রেখেছিল ব্যাংক। তবে টাকা ফেরতের প্রথম দিন ৮ হাজার ১২৫ জন গ্রাহক মাত্র ৩১৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। একইভাবে ২ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ৮ সেপ্টেম্বর টাকা তুলতে আসেন ৭ হাজার ২৩৪ জন গ্রাহক। মোট ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে সেদিন উত্তোলন হয় মাত্র ৩৪০ কোটি টাকা।

এরপর ৩ সেপ্টেম্বর আবেদন করা ২১ হাজার ৮৬ জন গ্রাহকের ৯২৩ কোটি টাকা ৯ সেপ্টেম্বর ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন ১০ হাজার ৬৯৭ জন আমানতকারী ৩৮১ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ৬ সেপ্টেম্বর আবেদন করা ১৫ হাজার ৪৭৬ জন গ্রাহককে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। ওইদিন ৬৫৭ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে ৯ হাজার ৪১ জন আমানতকারী মাত্র ৩৯১ কোটি টাকা তোলেন। সব মিলিয়ে ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ জন গ্রাহক মোট ৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ৯০৭ জন গ্রাহক ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা তুলেছেন। অর্থাৎ আবেদন করা অর্থের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই এখনো উত্তোলন করা হয়নি।

আবেদন করেও অনেক গ্রাহক টাকা ফেরত না নেওয়ার বিষয়টিকে ব্যাংকের প্রতি আস্থার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার। তিনি বলেন, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম আরও অনেক বেশি গ্রাহক অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করবেন। কিন্তু সে পরিমাণ গ্রাহক আবেদন করেননি। যারা করেছেন, তাদের বড় একটি অংশ আবার অর্থ উত্তোলন করছেন না। শাখা থেকে তাদের ফোন করার পর তারা টাকা না তোলার কথা জানাচ্ছেন। এর অর্থ হলো ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসছে। গ্রাহকদের প্রাথমিক দাবি ছিল হেয়ারকাট বাতিল করা। আমরা তাদের জন্য তার চেয়েও বেশি করছি। মাসিক স্কিমের টাকাও এখন দেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকে অর্থের প্রবাহ এবং লেনদেনের কার্যক্রমও প্রায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ক্যাশের পাশাপাশি আরটিজিএস, বিএফটিএন ও ক্লিয়ারিংও চালু করা হয়েছে। ফলে নতুন করে ব্যাংকে আমানতও জমা হচ্ছে। অনেক গ্রাহক হয়তো ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি ও সক্ষমতা বোঝার জন্য অর্থ উত্তোলন করছেন। তাদের অনেকেই আবার ব্যাংকে টাকাও জমা করছেন।’

জানা গেছে, টাকা ফেরতের কার্যক্রম শুরুর পর ৭ সেপ্টেম্বর ব্যাংকে নতুন করে ১৪১ কোটি টাকা জমা হয়। পরদিন জমা পড়ে ১৯৫ কোটি টাকা। একইভাবে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে ২৪৪ কোটি ও ৩১৪ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা হয়। সব মিলিয়ে এই চার দিনে ব্যাংকে নতুন করে ৮৯৪ কোটি টাকা জমা হয়েছে।

আর্থিক সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে একীভূত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সে সময় নতুন ব্যাংকটিকে ঢেলে সাজিয়ে এসএমই খাতকেন্দ্রিক এবং উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত করার কথা বলেছিলেন তিনি। একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত জনবল প্রায় ১৬ হাজার। শাখা রয়েছে ৭৫৯টি। এর বাইরে প্রায় ৭০০টি উপশাখা রয়েছে। অনেক এলাকায় একাধিক ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা পাশাপাশি রয়েছে। কোথাও তিন-চারটি ব্যাংকের শাখা রয়েছে, আবার কোথাও এই পাঁচ ব্যাংকেরই শাখা বা উপশাখা রয়েছে। ফলে ব্যাংকটির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনবল ও অবকাঠামো পুনর্গঠন। শাখা-উপশাখা পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একীভূত ব্যাংকটির কার্যক্রমকে দক্ষ ও টেকসই কাঠামোয় আনা হবে বড় পরীক্ষা।

এ বিষয়ে ব্যাংকটির এমডি মো. আবেদুর রহমান বলেন, ‘আমরা চলতি মাসেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নামে একটি মডেল শাখা চালু করব, যেখানে সব ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে পাঁচটি ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেম একীভূত করে নতুনভাবে সাজাতে সময় প্রয়োজন। নতুন করে সুইফট কোডও প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন জনবল ও শাখা পুনর্গঠনসহ বাকি বিষয়গুলোয় নজর দিচ্ছি।’

অর্থ ফেরতের ঘোষণা দেওয়ার পরও আমানত উত্তোলনের হার কম থাকায় ব্যাংক খাত নিয়ে নতুন করে আশাবাদী ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সুযোগ পাওয়ার পরও উত্তোলনের হার এত কম থাকা আশাব্যঞ্জক। এতে পরিষ্কার, নানা সংকটের পরও ব্যাংকগুলোর ওপর সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। এর পেছনে রয়েছে সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের প্রতি মানুষের আস্থা। বিশেষ করে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের পাশাপাশি একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিকে এমডি নিয়োগ দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’

জনবল ও অবকাঠামো পুনর্গঠন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, ‘আশা করি, সেটিও দ্রুত সম্পন্ন হবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনা পেলে ব্যাংকটি দ্রুতই আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠবে।’

বেশ কয়েক বছর ধরে দেশের ব্যাংক খাতে অর্থ লোপাট ও নানা ধরনের লুণ্ঠনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এর ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণও বড় আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী একীভূত হওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক। পুরো ব্যাংক খাতে খেলাপি হওয়া ঋণের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি এই পাঁচ ব্যাংকের। জুনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের, ৬০ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের ৯৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশই এখন খেলাপির তালিকায়। এক্সিম ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫২ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৭০ দশমিক ৮১ শতাংশ। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা ঋণের ৭৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। এছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির বিতরণ করা ঋণের ৯৭ শতাংশই খেলাপির তালিকায়। টাকার হিসাবে তা যথাক্রমে ২৭ হাজার ১৩৪ কোটি ও ১৪ হাজার ২১৯ কোটি টাকা।

এর পরও দুর্বল এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আস্থা ফিরে আসাকে ব্যাংক খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। ব্যাংক খাত সংস্কারে নেওয়া কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপের কারণেই এমন আস্থা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. ফাহমিদা খাতুন।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আমাদের ব্যাংক খাত যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, এর চেয়ে খারাপ অবস্থা আর হতে পারে না। বেশ কিছু সমস্যার কারণে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পরও সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে গ্রাহকরা এখনো ব্যাংকিং সিস্টেমের ওপর আস্থা রাখছেন, এটি খুবই ভালো লক্ষণ। তবে ওই পাঁচটি ব্যাংক মিলে যে নতুন ব্যবস্থা গঠিত হলো, সেটি যেন ঠিকভাবে চলে, এর বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়—সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে।’

এস এম/ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language