এশিয়া

জাপানি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে মার্কিন হামলা, টোকিওকে দায় নিতে হবে: আরাগচি

তেহরান, ৩০ আগস্ট – ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে যদি জাপানের ভূখণ্ডে অবস্থিত কোনো সামরিক স্থাপনা ব্যবহৃত হয়, তবে তার দায়ভার জাপান সরকারকেও বহন করতে হবে। সম্প্রতি জাপানের একটি বিমানঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমান পাঠানোর খবরের প্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আরাগচি জাপানের মিসাওয়া বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন এফ ১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে ইরানের ওপর হামলায় ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, জাপানে অবস্থিত এসব স্থাপনা ব্যবহারের জন্য টোকিও সরাসরি দায়ী।

তিনি জাপানের সাধারণ মানুষকে তাদের সরকারের কাছে এ বিষয়ে জবাবদিহি চাওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, জাপানের মাটি ব্যবহার করে মার্কিন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক প্রশ্ন তোলেন যে, একটি দেশের ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো যখন অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তখন সেই স্বাগতিক দেশের ভূমিকা উপেক্ষা করার সুযোগ থাকে না।

তিনি মনে করেন, মিত্র দেশের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনি পরিস্থিতির দায়বদ্ধতা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। জাপানের আওমোরি প্রিফেকচারে অবস্থিত মিসাওয়া বিমানঘাঁটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের একটি যৌথ সামরিক স্থাপনা। এখান থেকে পরিচালিত অভিযানের খবর জানাজানি হওয়ার পর জাপানের ভেতরেও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে দেশটির সংবিধানের শান্তিবাদী নীতির সঙ্গে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের এই সাংঘর্ষিক অবস্থান দেশটির জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত নিরাপত্তা জোট বিদ্যমান থাকায় সেখানে বিশাল সংখ্যক মার্কিন সেনা ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন রয়েছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনায় জাপানের মাটি ব্যবহার হওয়ার বিষয়টি এই দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। ইরান ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের পাশাপাশি তাদের মিত্রদের ভূমিকারও কড়া সমালোচনা শুরু করেছে। সূত্র আল জাজিরা।

এস এম/ ৩০ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language