ইউরোপ

বুলগেরিয়ার বেজমির ঘাঁটি ছাড়ল মার্কিন বিমান: গ্রামবাসীদের কাটেনি উদ্বেগ

সোফিয়া, ২৬ আগস্ট – বুলগেরিয়ার বেজমির বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বিমানবাহিনীর জ্বালানিবাহী ট্যাংকার বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী দিমিতার স্তোয়ানভ গত শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি ইলিয়ানা ইয়োতোভাও জানিয়েছেন যে, আপাতত এই বিশেষ মিশনটির সমাপ্তি ঘটেছে।

মার্কিন বিমানবাহিনী জানিয়েছে, অন্যান্য পরিচালনাগত কাজের প্রয়োজনে বোয়িং কেসি ১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতের রেশ ধরে স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা পুরোপুরি দূর হয়নি।

ইরান সরকার আগেই বুলগেরিয়াকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মার্কিন বা ইসরায়েলি সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি আরও সংঘাতময় করে তুললে বুলগেরিয়ার এই বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

এই পরিস্থিতিতে প্রায় এক হাজার বাসিন্দার বেজমির গ্রামে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, বিমানগুলো থাকাকালীন তারা প্রতিদিন মৃত্যুভয়ে দিন কাটিয়েছেন। বেজমির গ্রামের মেয়র রসেন রুসেভ জানিয়েছেন, বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা ও ট্যাংকার মোতায়েনের প্রতিবাদে তারা তিন হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন।

স্থানীয়দের মূল দাবি ছিল তাদের গ্রামকে সম্ভাব্য যুদ্ধ বিগ্রহ থেকে রক্ষা করা। বিমানগুলো চলে যাওয়ার খবরে কিছুটা স্বস্তি এলেও প্রবীণ বাসিন্দারা এখনো শঙ্কিত। তাদের অভিযোগ, নীতিনির্ধারকরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ জানিয়েছেন যে, এই বিমানগুলো কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি বরং ন্যাটোর মহড়ায় যুক্ত ছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করেছেন যে, ন্যাটোর এই কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও গ্রামবাসীরা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশায় রয়েছেন।

এস এম/ ২৬ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language