ক্রিকেট

অস্ট্রেলিয়ার দুই দিনের টেস্ট ও পিচ নিয়ে গাভাস্কারের তীব্র সমালোচনা

ক্যানবেরা, ২৫ আগস্ট – অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র দুই দিনের মধ্যে টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ক্রিকেটে নতুন কোনো বিষয় নয়। সম্প্রতি ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্টটিও মাত্র দুই দিনে শেষ হয়েছে। দুই দল মিলিয়ে এই ম্যাচে খেলা হয়েছে মাত্র ৭৫০ বল যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বলের হিসেবে চতুর্থ সর্বনিম্ন।

সাধারণত ভারতীয় উপমহাদেশে তিন দিনে টেস্ট শেষ হলে পিচ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলেও অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে সেই চিত্র ভিন্ন। এই দ্বিমুখী মানসিকতা নিয়ে এবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টস্টারে প্রকাশিত কলামে গাভাস্কার অস্ট্রেলিয়ার এই পিচকে ট্রাম্পোলিন বাউন্স পিচ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন যে এমন ফলাফলের পরেও পিচের সরাসরি সমালোচনা না করে প্রায়শই বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়। কখনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস আবার কখনো কিউরেটর বা টার্ফ এক্সিকিউটিভের ভুলের কথা বলা হয়। গাভাস্কারের মতে অস্ট্রেলিয়ার পিচে বাড়তি ঘাস রাখার পেছনে গরম আবহাওয়ার দোহাই দেওয়া একটি সাধারণ প্রবণতা।

পিচ নিয়ে সমালোচনার পরিবর্তে ব্যাটারদের টেকনিকের অভাবকে দায়ী করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কার। তিনি মনে করেন স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা যদি ভালো রান করতে পারতেন তবে টেকনিকের যুক্তি কিছুটা গ্রহণযোগ্য হতো।

কিন্তু ম্যাকাইয়ের পিচে যখন স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাও বড় জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন তখন শুধু ব্যাটারদের টেকনিককে দোষারোপ করা অবান্তর। ম্যাকাইয়ের পিচ গাভাস্কারের কাছে কোনো চমক ছিল না। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে হারের পর অস্ট্রেলিয়া যে অত্যন্ত বাউন্সি ও গতিশীল পিচ তৈরি করবে তা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যদিও টিম ম্যানেজমেন্ট দাবি করে যে পিচ তৈরিতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই কিন্তু গাভাস্কারের মতে পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন থাকে। বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলার দীর্ঘ বিরতি নিয়েও কথা বলেছেন গাভাস্কার।

২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশকে দীর্ঘ ২৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এমনকি ভারতকেও তাদের প্রথম সফরের পর দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়া যেতে ২০ বছর সময় লেগেছিল বলে তিনি স্মৃতিচারণ করেন।

এস এম/ ২৫ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language