এশিয়া থেকে রণতরি মধ্যপ্রাচ্যে সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, মিত্রদের উদ্বেগ

ওয়াশিংটন, ২২ আগস্ট – ইরান এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে এশিয়ায় তাদের মিত্র ও অংশীদারদের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা বাড়ছে।
বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ায় মোতায়েন থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন জাপান থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। দীর্ঘ নয় মাস ধরে সেখানে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপন করতেই জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এমন এক সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ রণতরি সরিয়ে নেওয়া হলো যখন চীন ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি ও তৎপরতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করছে। ফলে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতার এই পুনর্বিন্যাস চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন টানা প্রায় নয় মাস ধরে মোতায়েন থাকায় জাহাজটির নাবিকদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হয়েছিল। একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে দীর্ঘ সময় সাগরে থাকায় জাহাজটিতে খাদ্যসংকট এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।
এমনকি অন্তত একজন নাবিক জাহাজ থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। ফলে আব্রাহাম লিংকনকে ফিরিয়ে আনা জরুরি হয়ে পড়লেও এর পরিবর্তে জর্জ ওয়াশিংটনকে পাঠানোয় এশিয়া অঞ্চলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরির উপস্থিতি শূন্য হয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশও ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মুখে মার্কিন মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছে।
তাইওয়ান ইতোমধ্যে ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় ১৮ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ফিলিপাইন এবং জাপানও নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করছে। যদিও এশিয়ায় এখনও প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন সামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছে তবে বিমানবাহী রণতরি বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের অনুপস্থিতি মিত্রদের আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী মিত্রদের আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে যা এশিয়ায় এক নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণ তৈরি করছে।
এস এম/ ২২ আগস্ট ২০২৬









